প্রবেশে কড়াকড়ি, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে ট্রেন

0
50

এবারে কমলাপুরে ঈদ যাত্রার একেবারইে ভিন্ন চিত্র। গুটি কতক যাত্রীর আনাগোনা। গত কয়েক বছরে ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টা অপেক্ষা করেও ১ টি টিকেটের জন্য লোকে লোকারণ্য থাকতো স্টেশন চত্ত্র ।

বুধবার (২৯ জুলাই) সেই স্টেশন প্রায় শুনশান, মাত্র গুটি কতক যাত্রীর আনাগোনা। করোনা মহামারির কারণে গত ৩১ মে থেকে সারা দেশে দিনে মাত্র ১৭ জোড়া ট্রেন যাতয়াত করছে। তার মধ্যে কমলাপুর থেকে মাত্র ১২ জোড়া ট্রেন আসা যাওয়া করছে। আর এসব ট্রেনের ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছুটছে ট্রেনগুলো। সব টিকেটই বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। স্টেশনে ভিড়ের কোনো সম্ভাবনাই নাই। আবার শুধু মাত্র টিকেটধারী যাত্রীকেই স্টেশনে স্টেলাইজড মেশিনের মধ্য দিয়ে মার্কস পরে প্রবেশ করান হচ্ছে। সঙ্গে অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি নেই। অধিকতর নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসময়ে ট্রেন চলাচল করায় এবারের ঈদযাত্রার অকেবারইে ভিন্ন রুপ নিয়েছে। গতকাল বুধবার সরজমিন কমলাপুরে গিয়ে এমনি চিত্র চোখে পড়েছে।

স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে ঢোকার বেশ কিছুটা আগে থেকেই বেড়া দিয়েছে রেলপুলিশ। প্রতিটি যাত্রীর টিকেট চেক করা হচ্ছে, মার্কস পরতে বাধ্য করে তবেই স্ট্রেলাইজড মেশিনের মধ্য দিয়ে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি মিলছে। সঙ্গে পৌছে দেবারজন্য কাউকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। আর ১০ টি কাউন্টার থেকে মোবাইল অ্যাপস বা অন লাইনে টিকেট গুলো প্রিন্ট দেয়ার ব্যবস্থা করেছে রেল কতৃপক্ষ, সঙ্গত কারনে সেখানেও কোনো ভিড় দেখা যায়নি। এবারে রেলের ব্যবস্থাপণায় বেশ খুশী প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তারা জানিয়েছেন সময়মত ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। স্টেশনে কোনো বাড়তে মানুষে নেই, নেই কোন ভিখারী বা হকার। তারা রেলকে এ সুবন্দোব্যবস্থার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে- কিছু যাত্রী না জেনে স্টেশনে টিকেট কাটার জন্য এসেছেন। তাদেরকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী বুঝিয়ে ফেরৎ পাঠিয়ে দিচ্ছে।

কমলাপুৃর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জানান, এবারে আমরা ট্রেনের ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছাড়ছি। অনলাইনে টিকেট বিক্রি হওয়ায় স্টেশনে কোনো ভিড় নেই। টিকেট নিয়ে যারা আসছেন তাদেরকেই শুধু মাত্র স্টেশনে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনইে রেল চলাচল করছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন কমলঅপুর থেকে ১২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতয়াত করছে। এ ট্রেনগুলো হলো- সকাল ৬ টা ৪০ মিনিটে নীলসাগর এক্সপ্রেস, ৭টা ৩০ মিনিটে তিস্তা এক্সপ্রেস, ১০ টা ৪৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, বিকেল ৩ টায় সিলেটগামী কালনী, বিকেল ৪টে ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ, ৬টা ১৫ মিনিটে ব্রহ্মপুত্র মেল, সন্ধ্যে ৮টা ৪৫ এ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রাত ৯টা ৪৫ এ লালমনি, ১০টা ৪৫ এ পঞ্চগড় এবং রাতে ১১ টা ৪৫ এ বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন। প্রতি বছর ট্রেনে করে দু থেকে আড়াই লাখ যাত্রী ঈদে বাড়ি ফিরলেও এবারে মাত্র দিনে ৭ হাজার-৮ হাজার যাত্রী বহন করছে রেলওয়ে।

স্টেশন ম্যানেজার জানান, একটি ট্রেনে মুলত ৭৬০ জনের মত সিট থাকলেও অন লাইনে তার অর্ধেক টিকেট বিক্রি করা হয়েছে, মূল্য একই, সে কারনে দু সিটে একজন বসছে, যার ফলে সামাজিক দুরত্বও বজায় থাকছে। তাছাড়া ট্রেন কোন হকার বা বাড়তি যাত্রী ওঠার কোন প্রশ্নই ওঠে না। যারফলে এবারের রেল যাত্রা এবং রেলের সিডিউল সবই ঠিক আছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here