পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, বেশি সমস্যায় বেরোবি

0
191

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক সংকট চরমে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ২০১৪  ও ‘১৫ সালে যেখানে গড়ে প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক ছিলেন, সেখানে ২০১৬ সালে এই অনুপাতের ব্যবধান অনেকখানি বেড়েছে। প্রতি ২০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন বলে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৬ তে  বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ না হলেও ইউজিসি সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। সেখানে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে প্রতি পাঁচ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক রয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতিক হার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ইউজিসি।

ইউজিসি’র একটি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও কোনোটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতিক হার চোখ কপালে ওঠার মতো। প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছাত্র-শিক্ষকের আনুপাতিক হার উদ্বেগজনক বলা হয়েছে- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭:১ (শিক্ষার্থী:শিক্ষক), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪:১, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩:১, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২:১, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০:১,হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ২৬:১।

শিক্ষক সংকট ‘উদ্বেগজনক হারে’ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউজিসি তার বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট কমানোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে সেখানে বিডিরেন (বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক) এর কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপকদের লেকচার ভার্চুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রদান করা যেতে পারে।

শিক্ষক সংকট নিরসনে দীর্ঘস্থায়ী সুপারিশে বলা হয়েছে, মেধাবীরা যেন বিদেশমুখী না হয়ে শিক্ষকতা পেশায় যেতে পারে সেজন্য শিক্ষক পদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মেধাবীদের মধ্যে এখন একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে বিদেশ পাড়ি জমানোর। কারণ তারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চেয়ে বিদেশে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া দেশেও অনেক সেক্টর তৈরি হয়েছে যেখানে শিক্ষকতার চেয়েও তারা ভালো সুযোগ সুবিধা পায়। এসব কারণে তারা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না।’ শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here