“বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি” নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশ ত্যাগের চেষ্টা একাধিক কর্মকর্তার

0
125

……রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগের কর্মকর্তাদের দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন একাধিক কর্মকর্তা, যদিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় শেষ পর্যন্ত বিদেশ যাওয়া হয়নি তাদের। তবে সরকারি অনুমতি (জিও) নিয়ে এখনো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা দেশ ত্যাগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানায়, রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের শুরুতেই গত বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকটি বিভাগের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে দেশ ত্যাগে নিষেধ করা হয়। এ সময় যাদের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা ছিল, সেগুলোও জব্দ করা হয়। আর যেসব কর্মকর্তার নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা ছিল না, তাদের মৌখিকভাবে দেশ ত্যাগের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা জারির এক মাস পরই অর্থাৎ মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি হিসাব শাখার উপপরিচালক ইশরাত-ই মওলা। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একইভাবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিয়েল টাইম গ্রস সিস্টেমের (আরটিজিএস) যুগ্ম পরিচালক খন্দকার আলি কামরান আল জাহিদ। গভীর রাতে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের বিশেষ শাখার তৎপরতায় তাকে আটকানো হয়। পরে তার পাসপোর্টটিও জব্দ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার দেশ ত্যাগের চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শাহ আলম বলেন, ‘যেহেতু নিষেধাজ্ঞা দেয়া রয়েছে, সেহেতু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করাটা অবশ্যই উচিত নয়। তবে কয়জনকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া রয়েছে এবং কয়জন তা অমান্য করেছে, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।’
সিআইডির তদন্ত সূত্র জানায়, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক (ডিডি), সহকারী পরিচালক (এডি) এবং ডিজিএম পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে চায় না তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। সূত্রটি জানায়, রিজার্ভ চুরির আগে ও পরে ওইসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল খুবই রহস্যজনক। পরবর্তীতে তদন্ত করতে গিয়েই এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসবের ভিত্তিতেই ওইসব কর্মকর্তার দেশ ত্যাগের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সিআইডি।
রিজার্ভ চুরির রহস্য উন্মোচনে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। এদের মধ্যে অনেকের বক্তব্যেই ব্যাংকটির তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের প্রসঙ্গটি চলে আসে। এ নিয়ে দুই দফা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে সাবেক এ গভর্নরকে। সর্বশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
এর আগে গত বছরের মার্চ ও এপ্রিলে আতিউর রহমানসহ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ওই সময় রিজার্ভ চুরি মামলার বাদী বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের অধীন ব্যাংক অফিস অব দ্য ডিলিং রুমের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদাকেও টানা ৩ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট কোড হ্যাক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে মার্চের শুরুতে। এর পর ১৫ মার্চ এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আদালতের নির্দেশে ওই মামলার তদন্তভার পেয়ে দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একটি অংশ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত দেশীয় সূত্রগুলো নিয়ে তদন্ত করতে থাকে। আরেকটি অংশ রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশী সূত্রগুলো নিয়ে কাজ করছে

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here