নেত্রকোনার নদীগুলোয় নাব্য সংকটে নৌ-চলাচল বন্ধ নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে বোরা ধান

0
606

জেলার অন্যতম বৃহত্ মগড়া, কংশ, গুমাই, বেতাই, সোয়াইর, গোলামখালি এবং পাহাড়ি খরস্রোতা সোমেশ্বরী নদীর নাব্য না থাকায় নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পানির অভাবে জলজ সম্পদ যেমন বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। নেত্রকোনার প্রধান নদীগুলো পরিণত হয়েছে ছোট ছোট খালে।

অর্ধ শতক আগেও নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক এ জেলার এখন আর সেদিন নেই। নৌ-বাণিজ্য বন্ধ হবার কারণে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্ত নদীর বুকে এখন বোরো আবাদ হচ্ছে। নদী পানি শূন্য হয়ে পড়ায় পরিবেশেরও দারুণ ক্ষতি হচ্ছে। এক সময় নেত্রকোনার মগড়া নদী দিয়ে ৫শ মণী ধান ও পাটের নৌকা চলাচল করতো। এ জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নৌকাযোগে যেমন পণ্য পরিবহন করা হতো, তেমনি দেশের বিণ্নি এলাকা থেকেও মালামাল এখানে আসতো। নেত্রকোনা শহরের মালনী রোড ছিল নৌ-ঘাট;  কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় এখন আর সে সুযোগ নেই।

এছাড়া দুর্গাপুরের সাদা মাটি এবং সিলিকা বালু দুর্গাপুরের সোমশ্বেরী এবং জারিয়ার কংশ নদীর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হতো; কিন্তু নদীর নাব্য না থাকায় এবং নদী পানি শূন্য হয়ে পড়ায় সকল প্রকার নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কংশ নদীর বুক দিয়ে এখন মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। এ কারণে নৌযানের লোকজন অনেকটা বেকার হয়ে পড়েছে। গ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যও কমে গেছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের নিম্ন আয়ের লোকজন। কারণ সাদা মাটি ও বালি পরিবহনে সহায়তা করে দিনমজুররা অর্থ আয় করতো। এখন তা বন্ধ থাকায় তাদের সমস্যা হচ্ছে।  এছাড়া শুধু যে নৌপরিবহন বন্ধ হয়েছে, তা নয়। নদীতে পানির অভাবে কৃষির উপরও এর প্রভাব পড়েছে। নদীর আশেপাশে যে সমস্ত জমিতে বোরো আবাদ হয়, সে সমস্ত জমিতে পানির অভাবে সেচ কাজেরও সমস্যা হচ্ছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। নদীর যে দিকে তাকানো যায়, সর্বত্রই বোরো জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মুশফিকুর রহমান জানান, নেত্রকোনার মগড়া নদের পার বেদখল করে যারা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদের উচ্ছেদ এবং নদী উদ্ধারে প্রশাসন থেকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে নদী খননের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, মগড়া, কংশ এবং সোমেশ্বরী নদী খনন করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। কেবল টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলে নদী খনন কাজ করা হবে।

watch price in bangladesh