কয়লা ভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মান করে সরকারের অংশীদার হয়ে আসছে আইসোটেক

0
43

আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকারদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অতি জরুরি হওয়ায় সরকারের লক্ষ্যপূরণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অন্যান্য জ্বালানী যেমন হাইড্রো এবং কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের চেয়ে ব্যয়বহুল। এ কারণে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যতা আনারকৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অংশ হিসেবে একটি টেকসই দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানোযায়।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, কয়লাভিত্তিক (দেশীয় ও আমদানী) বিদ্যুৎ উৎপাদন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানী, দেশের সীমিত গ্যাস ব্যবহার, পারমানবিক শক্তি ও এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জ্বালানি দক্ষতা সংরক্ষণ কার্যক্রমও গ্রহণ করেছে

জানা গেছে, সরকারের `পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্লান ২০১৬ মোতাবেক ২০৪ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩ সালের মধ্যে ৩৯ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৫ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছেএরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কয়লাভিত্তিক প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই খাতের অংশীদার হিসেবে আইসোটক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিডেট ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নূন্যতম ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোট নিশানবাড়ীয়ায় এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ এবং ভূমি উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। যদিও সরকারের এই অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে আইসোটেক গ্রুপ নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেস এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি সম্পন্ন করেছে আইসোটেক। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’। প্রকল্পটি ‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হবে। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ৩০০ একর জমির উপর নির্মিতব্য এই প্লান্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা তবে কয়লার দরের সাথে সামঞ্জস্যরেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম হতে পারে৪টাকা

নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দূরত্ব টেংরাগীরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (ফাতরার চর) থেকে ন্যূনতম ৬.৩৮ কিলোমিটার এবং সুন্দরবন থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে আইনানুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার এবং সুন্দরবন (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বের বাহিরে হওয়ায় ইতোমধ্যে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে আইসোটেক। এছাড়া নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকায় সরকারি কোনো খাস জমি নেই মর্মে ভূমি অফিস থেকে এবং প্রকল্প এলাকায় বন বিভাগেরও কোনো জমি নেই বলে বনবিভাগ ছাড়পত্র দিয়েছে।  

ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে দেওয়া হবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র।

আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মঈনুল আলম বলেন, সরকারের সকল নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। কারণ, সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার প্লান্টটির নির্মাণ কাজ ৪৫ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, বিআইডাব্লিউটিএ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রত্যক্ষভাবে সহোযেগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত করতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণও সাহায্য করছে। সবার সাহায্য সহযোগিতা না পেলে এধরনের প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ন্যাশনাল গ্রিডে ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবো।

দেশে বিদ্যুতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মঈনুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এই অর্জন ধরে রেখে উন্নত দেশের কাতারে যেতে আমাদের অনেক বেশি উন্নয়নমুখী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনশত সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পাওয়ার প্লান্টটি নির্মাণ হলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে জানান আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ফিরোজ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করে প্রকল্প এলাকায় স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পসংলগ্ন পানি উন্নয় বোর্ডের জায়গায় যেসব ভূমিহীনবসতবাড়ি তৈরি করে আছেন তাদেরকে পুনর্বাসিতকরা হবে ইতোমধ্যে পুর্বাসনের জন্য সাড়ে তিনএকর জমি কেনা হয়েছে প্রত্যেক ভূমিহীনকে তাদেরনিজ নিজ নামে রেজিষ্ট্রি মাধ্যমে জমি স্থায়ীভাবেপ্রদান করা হবে। ওই জমিতেই তাদের জন্য বসবাড়িনির্মাণ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু এলাকার পানি লবনাক্ত সেহেতু গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রকল্প এলাকায় নানামুখী সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে আইসোটেক গ্রুপ।

মো. মঈনুল আলম বলেন, যেহেতু প্রকল্পটি বৈদেশিক অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে সেহেতু নিয়ম নীতির ব্যত্যয় ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, আমাদের পার্টনার ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্প এলাকায় আইসোটেকের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রকল্পের কোনো বিষয়ে কারো অভিযোগ কিংবা পরামর্শ লিখিত আকারে অভিযোগ কেন্দ্রে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here