“তারেকের বি’রুদ্ধে জ’ঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভি’যোগ তুললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত”

0
35

গতকাল দীর্ঘদিন পর বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কূটনৈতিকদের সঙ্গে বসেছিল। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিকদের ব্রিফ করার জন্যই ড. মঈন খানের বাসভবনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপির নেতাদের বাইরেও ড. কামাল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিএনপি। এই বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনার খবর ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কূটনৈতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই বৈঠকের ব্যাপারে হ’তাশা ব্যক্ত করেছেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার উপস্থিত ছিলেন। তিনিই মূলত কূটনৈতিকদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রবার্ট মিলার তারেকের ভুমিকার কথা জানতে চান। তিনি তারেকের ব্যাপারে তিনটি প্রশ্ন করেন। প্রথম প্রশ্ন ছিল, একজন দ’ণ্ডিত অপ’রাধী একটি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারে কিনা? দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, বিএনপিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোন পদ আছে কিনা? এবং সি’দ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারেক জিয়া অন্য সিনিয়র নেতাদের মতামত নেন কিনা। তৃতীয়ত, জামাতসহ বিভিন্ন জ’ঙ্গি এবং সাম্প্র’দায়িক শ’ক্তির সঙ্গে তারেক জিয়ার সং’শ্লিষ্টতার যে অভি’যোগ এবং তথ্য প্রমাণাদি রয়েছে সে ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য কি?

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই বিষয়টি তার বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন। সেসময় রবার্ট মিলার জানতে চান তাহলে তারেকের নেতৃত্বে বিএনপির সঙ্গে তিনি ঐক্য করছেন কেন? ড. কামাল হোসেন উত্তরে বলেন, তিনি তারেকের সঙ্গে ঐক্য করছেন না। তিনি বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করছেন এবং এই ঐক্যে তারেক জিয়ার কোন ভূমিকা নেই। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ৩ প্রশ্নের যে জবাব দেন তার উত্তর কূটনৈতিকদের কাছে সন্তোষজনক হয়নি বলেই জানা গেছে।

*সংশ্লি’ষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন তারেক জিয়া যে দ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হয়েছেন তা একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত দ’ণ্ড এবং তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরে এর আইনী মোকাবিলা করবেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, আইনী প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্ত হবেন। দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক জিয়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কোন পদ না থাকলেও দলের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে যিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই হন। তৃতীয় প্রশ্নের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেছেন, এরকম কোন তথ্য প্রমাণ তাদের হাতে নেই।

*বৈঠকের পর বিভিন্ন কূটনৈতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে তাদের অ’সন্তোষ এবং আ’পত্তির কথা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত একজন কূটনৈতিক বলেছেন, আমরা এ পর্যন্ত চার দফা বৈঠকে তারেকের ব্যাপারে সুস্পষ্ট আ’পত্তি উত্থাপন করেছি। আমরা বলেছি যে, একটা শক্তিশালি বিরোধী দলের স্বার্থেই তারেক জিয়ার মত বি’তর্কিত ব্যক্তিদের স’রে যাওয়া উচিত। সর্বোপরি তিনি যেহেতু দেশে নেই। দেশের রাজনীতিতে তার না থাকাই উত্তম। কিন্তু বিএনপিকে বারবার বলার পরও বিএনপি এ ব্যাপারে কোন পদ’ক্ষেপ নিচ্ছে না বা নিতে পারছে না।

*একাধিক কূটনৈতিক বলেছেন যে, যতক্ষণ তারেক জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে থাকবেন ততক্ষণ বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া বা বিএনপির দাবি দাওয়ার প্রতি সহানুভূতি জানানোর কোন সুযোগ নেই। কারণ আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী একজন দ’ণ্ডিত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করার কোন রেওয়াজ কূটনৈতিকদের নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here