“ওবায়দুল কাদেরকে সরাতে সিনিয়ররা একাট্টা হচ্ছেন!”

0
22

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দলটির দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের। মাঝখানে অসুস্থতার কারণে দলের কার্যক্রমের বাইরে ছিলেন তিনি। সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসার পর ফিরে তিনি আস্তে আস্তে পুরনো ফর্মে ফিরে আসছেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরের উত্থান আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা পছন্দ করছেন না। ওবায়দুল কাদেরের শক্তি খর্বের জন্য সিনিয়র নেতারা উঠেপড়ে লেগেছেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আগামী কাউন্সিলে পাল্টা প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে।

*আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, ওবায়দুল কাদের যখন সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তখন সিনিয়র নেতারাই তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তারা খুশিই হয়েছিলেন। যদিও ওবায়দুল কাদেরের সাধারণ সম্পাদক হওয়া বিষয়টি এককভাবে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় হয়েছে এবং তিনি ওবায়দুল কাদেরকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনিত করেছেন।

*কিন্তু সিনিয়র নেতারা মনে করছেন যে, কাদের যেহেতু রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছেন সেজন্য তিনি সাধারণ সম্পাদক হলে সিনিয়র নেতাদের মর্যাদা বাড়বে। সিনিয়র নেতাদের দলে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়াতে অনেকেই উচ্ছ্বাসিত হয়েছিলেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে তত দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ওবায়দুল কাদের সিনিয়রদের কেবল কোনঠাসাই করেননি, সিনিয়রদের অস্তিত্বের প্রায় মূল উৎপা’টন করেছেন। এখন আওয়ামী লীগের কোন অনুষ্ঠানে সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়েই তিনি তার একক কর্তৃত্বে দল পরিচালনা করছেন। সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন যে, অতীতে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সিনিয়র নেতাদের ডাকা কিংবা দাওয়াত দেওয়া হতো। এখন সেই সমস্ত শিষ্টাচারগুলো লো’প পেতে শুরু করেছে।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, উপদেষ্টামণ্ডলীর যেহেতু কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই তাই উপদেষ্টামণ্ডলীকে বাদ দেয়াটা অসৌজন্যতা হলেও এই নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। কিন্তু দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদেরকেও এখন দলীয় কর্মসূচি এবং দলীয় কর্ম’কাণ্ডে অন্তর্ভু’ক্ত করা হচ্ছে না। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষো’ভ অসন্তো’ষ দা’না বাঁ’ধতে শুরু করেছে। ওবায়দুল কাদের দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অন্যান্য নেতাদের নিয়েই নিয়মিত প্রেস কনফারেন্স বা অন্যান্য কর্মসূচিগুলো পালন করছেন। শুধুমাত্র যেখানে সভাপতি উপস্থিত থাকেন সেখানেই প্রেসিডিয়ামের সদস্যদেরকে নাম কাওয়াস্তে ডাকা হচ্ছে। সেখানে তাঁদের কেউ কেউ আসছেন না।

*এরকম বাস্তবতা অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে। এই অবস্থায় তাঁরা একটা কিছু করার পরিকল্পনা করেছে। যেহেতু এখনও অনেক সিনিয়র নেতার নিজস্ব কর্মীবাহিনী আছে, নিজস্ব গ্রুপ রয়েছে, সেজন্য তাঁরা এখন একা’ট্টা হওয়ার চেষ্টা করছেন আগামী কাউন্সিলে ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে হটিয়ে দেয়ার জন্য। এক্ষেত্রে তাঁরা জানেন যে, সিনিয়রদের মধ্য থেকে কেউ সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না। তাঁদের লক্ষ্য সাধারণ সম্পাদক হওয়াও নয়। তাঁরা শুধু চাইছেন যে, ওবায়দুল কাদের যেন সাধারণ সম্পাদক পদে না থাকে।

*আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আওয়ামী লীগ এমন একটা দল যেখানে কারও উপকার করা অনেক কঠিন কিন্তু ক্ষ’তি করা অনেক সহজ। ওবায়দুল কাদেরের বিরু’দ্ধে যদি সিনিয়র নেতারা একাট্টা হন তাহলে ওবায়দুল কাদেরের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অনেকেই ধারণা করছেন যে, যেহেতু ওবায়দুল কাদের মাত্র এক মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন সেহেতু দ্বিতীয় মেয়াদে তার থাকাটা অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অনেকেই ওবায়দুল কাদেরের একজন বিকল্প খুঁজছেন।

*সেক্ষেত্রে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করছেন। ড. আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দিপু মনির বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। এমনকি ড. হাসান মাহমুদের নামও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তবে সিনিয়র নেতারা বিকল্প হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফের বিষয়টি বিশেষ করে ভাবছেন। মাহাবুব আলম হানিফের সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে।

*আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন যে, এখন তাঁরা কোন পদ পদবী চান না, মন্ত্রিত্ব চান না। তাঁরা শুধু চান সম্মান। এমন একজন সাধারণ সম্পাদক তাঁরা চান, যে সাধারণ সম্পাদক সিনিয়রদেরকে সম্মান দেবেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁদের পরামর্শ নিবেন। পরামর্শ গ্রহণ করা না করা দলের সাধারণ সম্পাদকের বিষয়। পরামর্শ নিতে অসু’বিধা কোথায়? তবে আওয়ামী লীগের মত দলে শেষপর্যন্ত সিনিয়র নেতারা যা চাইবেন তা কতটুকু হবে তা অনিশ্চিত। কারণ আওয়ামী লীগে একক জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শেষপর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধা’ন্ত চূড়ান্ত করার এখতিয়ার একমাত্র তাঁরই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here