ফ্লাইওভারে বাতি লাগাতেই ৩০ কোটি টাকা

0
30

রাজধানী ঢাকার অন্যতম মেগা প্রকল্প মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার। হাজার কোটি টাকার এ ফ্লাইওভার উদ্বোধনের দুই বছর পার হতে না হতেই আলোহীন হয়ে পড়েছে। ফলে আলো ফেরাতে নতুন করে সড়ক বাতি লাগানোর জন্য প্রকল্প তৈরি করেছে সিটি করপোরেশন। এজন্য প্রথমে ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চাইলে তা ফিরিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এখন ৩০ কোটি টাকার আরেকটি প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে।

malibagh mouchak mogbazar flyover 1বর্তমানে রাতের ফ্লাইওভারের দৃশ্য

পুরো ফ্লাইওভারে সড়ক বাতি না জ্বলায় অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। এ কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে ক্রমশ। কয়েকদিন আগে এই ফ্লাইওভারের উপরেই এক মোটরসাইকেল চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বর্তমানে ফ্লাইওভারে অন্ধকার থাকায় ছিনতাইকারী ও নেশাখোরদের উৎপাত বেড়েছে।

উদ্বোধনের পর দুই বছর যেতে না যেতেই কেন আলোহীন হয়ে পড়ল? জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, কিছু বাতি চুরি হয়েছে, কিছু নষ্ট হয়েছে। ফ্লাইওভারটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন সিটি করপোরেশনের। অন্যদিকে সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে, দায়িত্ব বুঝে নেয়ার সময়ই কোনো বাতি ছিল না। তাই নতুন করে বাতি লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

malibagh mouchak mogbazar flyover 2উদ্বোধনের পর রাতের ফ্লাইওভারের দৃশ্য

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এমতাবস্থায় নতুন করে সড়ক বাতি লাগানো এবং তদারকি করতে ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলেছে, সড়ক বাতি লাগানো বাবদ এতো টাকা দেয়া যাবে না।

পরে অর্ধশত কোটি টাকা থেকে আনুষাঙ্গিক খরচ কমিয়ে বাতি লাগানোর জন্য ফের ৩০ কোটি টাকার সংশোধিত প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এখন ফ্লাইওভারে আলো ফেরাতে প্রস্তাবটি অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে আছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বেশিরভাগ সড়কবাতিই জ্বলতো। তাছাড়া কিছু বাতি চুরি হয়েছে, বাতির তারও চুরি হয়েছে। জানানোর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফের তা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু বারবার চুরির দায় কে নিবে?

এদিকে প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, বাতি ও তার সব চুরি হয়ে গেছে। তাই নতুন করে সব কিছু লাগাতে হবে। এ কারণে বাজেট বেড়েছে। অর্থ বরাদ্দ ছাড়া কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে ফ্লাইওভারে আলো ফেরাতে অপেক্ষা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here