মন্ত্রীর ভাগ্নে অ্যাপোলোর দাপটে রেলে অস্থীরতা!

0
49

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের ভাগ্নে শাহ নাজমুল হুদা অ্যাপোলোর দাপটে অস্থীর রেলওয়ের কমকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদাররা। বর্তমানে তিনি হয়ে ওঠেছেন পুরো রেলওয়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বদলি আতঙ্কে থাকেন। তার কথায় ঠিকাদারি কাজ মেলে। সব কিছুই করেন মন্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয়ে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হওয়ায় সেই প্রভাবটি ব্যবহার করে থাকেন তিনি। তবে রেলওয়েতে অবৈধভাবে কোনো প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ নাজমুল হুদা অ্যাপোলো দাবি করেছের, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নুরুল ইসলাম সুজন। গত মঙ্গলবার রেল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা জানান। অথচ তার নাম ভাঙিয়ে তার মন্ত্রণালয়ে চলছে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। বিষয়টি এখন রেল ভবনে আলোচনার খোরাক। অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়েতে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অ্যাপোলো নামে আমার একজন ভাগ্নে আছে এটা ঠিক। সে তার মতো কারও সঙ্গে জয়েন্টভেঞ্চারে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। কিন্তু কারও নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা করা বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আমার কানে আসেনি। এই প্রথম শুনলাম। মন্ত্রী বলেন, কেউ বৈধভাবে ব্যবসা করতে চাইলে করুক। তবে নাম ভাঙিয়ে কোনো অন্যায় আবদার বা প্রভাব বিস্তারে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। বর্তমানেও দিচ্ছি না। কখনো দেব না।

এদিকে একাধিক রেল কর্মকর্তা জানান, কখনো তারা মন্ত্রীর কোনো অন্যায় দেখেননি। অথচ তার পরিচয় ব্যবহার করে অ্যাপোলো রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করছেন। কিছুদিন আগে রেলওয়ের সিদ্ধান্ত হয়, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা করবে রেল। বিদ্যমান অপারেটরদের মেয়াদ শেষে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানো হবে না। এ ক্যাটারিং সার্ভিসেও অংশ নিতে ওই ভাগ্নে প্রচ্ছন্ন চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

রেলওয়ের ঠিকাদাররাও অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন। তাদের একজন বলেন, সাধারণত পূর্বাঞ্চলের ঠিকাদার পশ্চিমাঞ্চলে এনলিস্টেড হতে পারে না। আবার পশ্চিমাঞ্চলের ঠিকাদার পূর্বাঞ্চলে না আসার প্রথা আছে। পূর্বাঞ্চলের কাজ করার জন্য এনলিস্টেড হয়েছেন অ্যাপোলোর পরিচিতরা। পক্ষান্তরে পূর্বাঞ্চলের ঠিকাদাররা পশ্চিমাঞ্চলে এ সুযোগ পাচ্ছেন না।

ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেও অ্যাপোলোর তদবির আসছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়েতে লিখিত অভিযোগ করেন আবদুল কাদের নামের এক ব্যক্তি। সেখানে তিনি বলেন, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ইজারা বাতিল ও ইজারা প্রদানে চাপ প্রয়োগ করেন অ্যাপোলো। টাকার বিনিময়ে রেলওয়ের জমি, পুকুর ও দোকান বরাদ্দের চেষ্টা করেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে রেলের স্ক্র্যাপ বিক্রির দরপত্র ছিল। সেখানে একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেন। যদিও বিষয়টি আদালতে গড়ায়। ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে চলাচলরত নতুন ট্রেনের খাবার বিতরণেও অনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসেছে অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে।

ঢাকার কমলাপুরে পার্কিং স্ট্যান্ড নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে সম্প্রতি। রেল বলছে, ঠিকাদারের পরিবর্তে নিজেরাই চালাবে পার্কিং কার্যক্রম। রেলওয়ের বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক এবং বিভাগীয় সম্পত্তি কর্মকর্তাদের এ রকম পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে পরে ঠিকাদারের পক্ষেই রায় আসে। অভিযোগ এসেছে, এ পার্কিং ব্যবস্থায় প্রভাব খাটাতে চাইছেন অ্যাপোলো।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাপোলো গত রাতে আমাদের সময়কে বলেন, আমি খুবই স্পষ্টবাদী মানুষ। ১৫ বছর ধরে ঠিকাদারি ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা করি। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বা তার পরিচয় ব্যবহার করে কখনো কোথাও তদবির করিনি। লোকবল নিয়োগ, ক্যাটারিং বা অন্য ঠিকাদারিÑ কোনো বিষয়েই আমি তদবির করিনি। রেলে আমার কোনো ব্যবসা নেই।

কারও পক্ষ হয়ে তদবির বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ষড়যন্ত্র। কেউ হয়তো মনে করছে তার অন্যায় কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হতে পারে। গণমাধ্যমের দায়িত্ব সঠিক বিষয়টা তুলে ধরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here