ইমরানকে বাদ দিয়ে পাক সেনাপ্রধানের বৈঠক

0
85

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বাদ দিয়ে দেশটির শিল্পপতিদের সঙ্গে এক রুদ্ধ-দ্বার বৈঠক করেছেন সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া। যেখানে দেশের আর্থিক ঘাটতি, দুর্নীতির সমস্যা, প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি কমে আসার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আর এই খবরের পর চলমান গুঞ্জনে নতুন করে হাওয়া লেগেছে, তবে কি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরান খানের সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে?
পাকিস্তান সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা বহুবার ঘটেছে। দেশটিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বরাবরই নির্বাচিত সরকারগুলোর চেয়ে শক্তিশালী থাকে। আর তাই কূটনীতিকদের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি নীরব সামরিক অভ্যুত্থানের পথে হাঁটতে চলেছে পাকিস্তান?
একটি সূত্র জানিয়েছে, করাচি ও রাওয়ালপিন্ডির সামরিক দফতরে এ বছরে এমন তিনটি বৈঠক ইতিমধ্যেই হয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, বৈঠকে বাজওয়া শিল্প মহলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন করেছেন, কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা যায়। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত কার্যকর করতে নির্দেশও পৌঁছেছে সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে।
এই বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি দেশটির আইএসপিআর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর। যদিও শুক্রবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বুধবার বাজওয়া শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু শিল্পপতি ও আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিবৃতিতে বাজওয়া বলেছেন, ‘অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।’
বাজওয়ার এই বৈঠককে অবশ্য ততটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না পাক অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওমর হামিদ খান বলেছেন, অর্থনীতি নিয়ে সেনাপ্রধানের ধারণা থাকতেই পারে। তবে আমাদের মনে হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে। ওরা ওদের মতো কাজ করছে, সরকার সরকারের মতো।
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এর আগে প্রকাশ্যে বলেছেন, সেনার সঙ্গে তাঁর সরকারের কাজ করতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।
জেনারেল বাজওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর গত আগস্টে আরও তিন বছরের জন্য পদে বহাল রেখেছেন ইমরান খান। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আসিফ গফুর জানান, বাজওয়া প্রাথমিকভাবে দায়িত্বের মেয়াদবৃদ্ধিতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে শাসক দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা নাকি ইমরানকে বোঝান, বাজওয়াকে রেখে দেওয়া কেন জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here