তারেকের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ক্যাসিনো যন্ত্র বাংলাদেশে এসেছে

0
118

বাংলাদেশে মিথ্যে ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনো সামগ্রীগুলো এনেছিল লন্ডনে তারেকের কোম্পানি হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালটেন্স লিমিটেড। এটি পিআর এন্ড কমিউনিকেশন ফার্ম হিসেবে ২০১৫ সালে নিবন্ধিত। এই কম্পানির নাম্বার হলো ০৯৬৬৫৭৫০। এর ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হলেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এবং বাকি ৫০ শতাংশের মালিক হলো তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান। এই কনসালটিং ফার্মটি বিভিন্ন জাগায় ক্রীড়া এবং বিনোদন সামগ্রী সরবরাহ করে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে ক্যাসিনো মেশিন আসে ২০১৭ সালে মোহামেডান ক্লাবে। এ সময় মোহামেডান ক্লাবের চেয়ারম্যান ছিলেন লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ফালুর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত এবং তারেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। তিনি নিজেকে পাপানের ‘দোস্ত’ বলে পরিচয় দিতেন। পাপনের আনুকুল্যেই লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালক হন। মোহামেডান ক্লাবের সভাপতির পদও তিনি এই ক্ষমতায় দখল করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ডিজিটাল যন্ত্রগুলি ঢাকায় এসেছিল চীন থেকে। দেখা যায় যে, হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালটেন্স কম্পানিটি চীনের একটি কম্পানিকে এইসব পন্য সরবারহের দায়িত্ব দেয়। চীন থেকে ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেখানে মিথ্যে ঘোষণা দিয়ে এসব সামগ্রী বের করা হয়। লোকমান শুধু নিজেই আনেননি। এরপরে তিনি ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটকে প্ররোচিত করেন এবং এখানে প্রচুর লাভ হবে, নেপালিরা এটা পরিচালনা করবে ইত্যাদি নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভিক্টোরিয়া ক্লাব এবং ওয়ান্ডার্স ক্লাবেও ক্যাসিনো চালুর ব্যবস্থা করে। মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ভরে যায় ক্যাসিনোর ডিজিটাল যন্ত্রগুলো। নথিপত্রে দেখা যায়, সবগুলো যন্ত্রই এসেছে হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালটেন্স কম্পানি থেকে। তারেক জিয়ার মাধ্যমেই এই ডিজিটাল যন্ত্রগুলো বাংলাদেশে ঢুকেছিল।

উল্লেখ্য যে, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে রাজনীতি বিশৃঙ্খল করার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র এবং কালো টাকা তুলে দিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের টেন্ডারবাণিজ্যের পথে প্ররোচিত করেছিলেন। জিয়ার পথেই হেটেছেন তার ছেলে তারেক। ২০১৪ এবং ২০১৫ এর আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তরুণদেরকে বিপথে পরিচালিত করার জন্য এবং উন্নয়ন সমূলে নষ্ট করার জন্য তারেক পরিকল্পিতভাবে ক্যাসিনোর অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিএনপির কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহার করেছেন যাদের মধ্যে লোকমান হোসেন ভুঁইয়া অন্যতম।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, হোয়াইট এন্ড ব্লু কনসালটেন্স লিমিটেডের সঙ্গে মোহামেডান ক্লাবের ২০১৬ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যে চুক্তিতে হোয়াইট এন্ড ব্লুকে বাংলাদেশে ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই কার্যাদেশ অনুযায়ী হোয়াইট এন্ড ব্লু কনসালটেন্ট চীন থেকে এইসমস্ত ক্যাসিনো সামগ্রী বাংলাদেশে পাঠায়। তবে অর্থ কিভাবে পরিশোধ হয়েছে সেই সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে লোকমান তাবিথ আউয়ালের মাধ্যমে লন্ডনে হুন্ডির মাধ্যমে বেআইনীভাবে এই টাকা পরিশোধ করেছে। বাংলাদেশে যতগুলো ক্যাসিনো মেশিন আছে সবগুলোই হোয়াইট এন্ড ব্লু কনসালটেন্স দ্বারাই আমদানিকৃত এরকম নিশ্চিত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here