নানকের ‘পুত্র’ রাজীব!

0
982

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যারা এতদিন তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি তারা এখন রাজীবের সব কুকীর্তি ফাঁস করছেন। মোহাম্মদপুরের ফুটপাত, সিএনজি স্টেশন, সরকারি জমি দখল কিংবা গরুর মাঠ ইজারা সবকিছুই ছিল রাজীবের নিয়ন্ত্রনে। আর এই সমস্ত কিছুর পেছনে ছিলেন একজন, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

মোহাম্মদপুরে রাজীবকে বলা হতো নানকের পুত্র। মূলত নানকের পরিচয়েই মোহাম্মদপুরে রাজত্ব কায়েম করেছিলেন রাজীব। নানকের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেত না। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, খুন, কিশোর গ্যাং, মাদক ও ডিশ ব্যবসা সবকিছুই চলতো রাজীবের কথায়। সবাই ধরেই নিয়েছিল যে, রাজীব যা বলে সেটা নানকেরই কথা। রাজীব যা চায় সেটা নানকেরই চাওয়া। এজন্য কোনো বাধা বিপত্তি ছাড়াই গত ছয় বছরে সম্পদের পাহাড় গড়তে পেরেছিলেন রাজীব।

মাত্র ছয় বছর আগেও মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির একটি বাড়ির নিচতলার গ্যারেজের পাশেই ভাড়া থাকত রাজীব। ছোট, স্যাতস্যাতে দুটো রুমেই পরিবার নিয়ে থাকতো সে। অথচ এখন একই হাউজিং এলাকায় নিজের ডুপ্লেক্স বাড়ি আছে রাজীবের। নামে-বেনামে তার অন্তত ৬টি বাড়ি রয়েছে শুধু মোহাম্মদপুরেই। বিদেশেও আছে অঢেল সম্পত্তি।

শোনা যায়, মূলত ২০১৩ সাল থেকে নানকের ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন রাজীব। নিরীহ স্বভাব এবং বিশ্বস্ততার কারণে নানক রাজীবকে পছন্দ করতেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। খুব দ্রুত টেন্ডার বাণিজ্য, তদ্বির বাণিজ্য, সরকারি জায়গার ভাড়া আদায় সবকিছুর মধ্যমনি হয়ে ওঠেন রাজীব।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গ্রেপ্তারের পর ওই বাসাতেই তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে নিয়ে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালানো হয়। রাজীব র‍্যাবের কাছে কী কী তথ্য দিয়েছে তা এখনও জানা যায় নি।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here