বায়ুর গতিবেগ বেড়েছে, দিল্লিতে সামান্য কমল দূষণমাত্রা

0
40

দিল্লিতে বায়ুর গতিবেগ শনিবার সামান্য হলেও বেড়েছে। আর তার হাত ধরে কমেছে দূষণের প্রকোপ। শনিবার বেলা দশটা নাগাদ বাতাসের গুণমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই) ছিল ৪০৭। যা শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ একিউআই ৪৮৪-র থেকে অনেকটাই কম। শুধু দিল্লিরই নয়, আশপাশের গাজিয়াবাদ এবং গ্রেটার নয়ডারও বাতাসের গুণমানের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। শুক্রবার এই দুই শহরের একিউআই ছিল ৪৯৬। শনিবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ এবং ৪৫২। শনিবার সকাল দশটা নাগাদ প্রতি ঘনমিটারে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ (পিএম২.৫) রেকর্ড করা হয় ২৬৯ মাইক্রোগ্রাম। সহনমাত্রা ৬০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারের থেকে যা অনেকটাই বেশি। অপরদিকে পিএম১০-এর মাত্রা ছিল ৪৩৬। পিএম২.৫ ধূলিকণার ব্যাস ২.৫ মাইক্রনের থেকে কম হওয়ায় সহজেই ফুসফুস, এমনকী রক্তে মিশে যেতে পারে। এরফলে বড়সড় শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুক্রবারের থেকে শনিবার বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। তাই দূষণ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। রবিবার থেকে মঙ্গলবার বায়ুর গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার হতে পারে বলেও আশার কথা শুনিয়েছেন তাঁরা। সুখবর আরও রয়েছে। সাইক্লোন মহার প্রভাবে ৭ এবং ৮ নভেম্বর পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং দিল্লিতে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টি যত সামান্যই হোক না কেন, দূষণ কমাতে এর জুড়ি মেলা ভার। দিল্লির পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ফসলের অবশেষ পোড়ানোর ফলে ধোঁয়া এসে দিল্লিতে দূষণ ঘটায়। বৃষ্টির ফলে দূষণ কণাগুলি ধুয়ে যাবে। নির্মল হবে বাতাস।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লির দূষণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়। বস্তুত, সারাদিনই রাজধানী দিল্লি ছিল কুয়াশার চাদরে ঢাকা। পরিস্থিতিকে গ্যাস চেম্বারের সঙ্গে তুলনা করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। তাছাড়া, এনসিআর এলাকায় সমস্ত নির্মাণ ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শুক্রবার জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (ইপিসিএ)।
এদিকে, দূষণ নিয়ে শনিবার নজিরবিহীন রাজনৈতিক তরজায় জড়াল আপ এবং বিজেপি। দূষণের হাত থেকে বাঁচতে ফসলের অবশেষ পোড়ানো নিয়ে দিল্লির পড়ুয়াদের হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখতে বলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শনিবার কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরের অভিযোগ, দূষণ নিয়ে রাজনীতি করছেন আপ প্রধান। তাঁর কথায়, ‘আমার মনে হয়, সমস্যার সমাধান না করে দূষণ নিয়ে দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপ করে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী পড়ুয়াদের চিঠি লিখতে বলে তাঁদের খারাপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। যেন তাঁরা ভিলেন।’ জাভরেকর বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে।
অপরদিকে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এখনও ফসলের অবশেষ পুড়িয়ে চলেছে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার বহু কৃষক। এর ফলও ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। এই দুই রাজ্যের বহু জেলায় দৃশ্যমানতা কমে গিয়েছে। বাতাসের গুণমান ‘খুব খারাপ’ বা ‘উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে নেমে গিয়েছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here