কৃষক লীগে কৃষকবান্ধব নেতৃত্ব চায় তৃণমূল, আলোচনায় যারা

0
69

দরজায় কড়া নাড়ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংগঠনটির ১০ জাতীয় সম্মেলন। কৃষক লীগের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব দেখা গেছে।

সম্মেলন উপলক্ষে ১৪টি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত রয়েছেন। সম্মেলনের মাধ্যমে নবীন-প্রবীনের সমন্বয় নতুন নেতৃত্ব পাবে বলে আশা করছে সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে কৃষক দরদী ও কৃষক বান্ধব নেতৃত্ব আশা করছে তৃণমূলের নেতারা।

তৃণমূল বলছে, কৃষকদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক যাদের তারাই থাকবেন আগামীর নেতৃত্বে। নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান কৃষক লীগে সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা। তার নেতৃত্বে সংগঠনটির তৎপরতা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। কৃষক লীগের যতটুকু বিস্তৃতি, ধরে রাখা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, তার হাত ধরে।

তিনি ছাত্রলীগের দুঃসময়ে জিয়ারউর রহমানের আমলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি ছিলেন। তিনি ওবায়দুল কাদের ও বাহালুল মজনুন চুন্নু কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। জিয়া সরকারের নানা দমন-পিড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি। একাধিকবার জেলও খাটেন তিনি। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে আসার পরে ছাত্রলীগের সকল প্রোগ্রামে ছিলো তার সরব উপস্থিতি।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন মোতাহার হোসেন মোল্লা। পরে তাকে কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিলো। সর্বশেষ ২০১২ সালের সম্মেলনে তিনি সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কৃষক নেতা মোতাহার মোল্লা বলেন, “আমি ছাত্র জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ডাকসু ভিপি ছিলাম, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ করেছি। আমি এখন কৃষক লীগ করি। আপা ( শেখ হাসিনা) যদি মনে করেন মোতাহার অনেক দিন কৃষক লীগ করছে, এখান থেকে প্রমোশন দিয়ে আওয়ামী লীগে নিব। নিয়ে নিতে পারেন। আর যদি মনে করেন, এই সেক্টরে আরো কিছু দিন দরকার তাকে, তাহলে এই সেক্টরে আরো উন্নয়ন হবে।  আপা রাখলে থাকবো। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।”

নেতৃত্বের যাত্রায় এগিয়ে রয়েছেন কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট।  তিনি বর্তমানে কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ৮০ দশকে ছাত্রলীগের হাত ধরেই রাজনীতিতে পথচলা শুরু সুইটের। ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের রোষানলে পড়ে একাডেমিক প্রাপ্ত বৃত্তি বাতিল হয় তার।  ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের দুঃসাশনের প্রতিবাদে প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন রাজপথে।

১/১১ এর সময় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ছিলেন সামনের সারিতে। প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন সুইট। তিনি নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন, ‘কৃষকের কন্ঠ’ নামে কৃষকদের একটি মুখপাত্রের। যার প্রতিষ্ঠাতা জননেত্রী শেখ হাসিনা। খালেদা-নিজামী জোট সরকারের আমলে কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন সংগ্রামেও ছিলেন কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট।

সাখাওয়াত হোসেন সুইট বলেন, “কৃষি ও কৃষকের ক্যালাণে যারা কাজ করবে তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসুক।”

নেতৃত্বের দৌড়ে আরো এগিয়ে আছেন কৃষক লীগের তরুণ সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব। তিনি কৃষক লীগের সহ-দফতর সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রলীগ তার রাজনীতির হাতেখড়ি। ময়মনসিংহ কলেজে ছাত্রলীগের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। এছাড়াও তিনি আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির প্রতিবাদে সার্বক্ষণিক রাজপাথে ছিলেন। ১/১১-এর সময় আসাদুজ্জামান বিপ্লব শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন।

আসাদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, “নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। সম্মেলনে তিনি ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন বলে আশা করছি।”

নেতৃত্বের দৌড়ে আরো যাদের নাম উঠে আসছে তারা হলেন, সংগঠনটির সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদশা, আকবর আলী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here