গ্রেফতার আতঙ্ক বোরহানউদ্দিনে

0
35

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে ফেসবুকের একটি কথিত পোস্টকে কেন্দ্র করে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের পর এক মাস পার হয়ে গেছে। গত ২০ অক্টোবরের ওই সহিংসতায় চার জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। মন্দিরসহ হিন্দুদের ১০-১২টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। যার ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে কথিত পোস্টটি ছড়ানো হয়, সেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভ কারাগারে আছেন। যদিও শুভর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় শুভসহ তিনজন জেল হাজতে আছেন। এদিকে ২০ অক্টোবর সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ এবং প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করে গৌর নিতাই আশ্রম মন্দিরের সভাপতি সত্য প্রসাদ দাস মামলা দায়ের করেন। এ কারণে এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বোরহানউদ্দিনে নিহত চার জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

সহিংসতার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল কাদের জানান, ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন−মো. আরিফ (২৪), মো. সজীব (২৩), আল-আমিন (২৫), আইউব আলী স্বপন (৩৫), মো. হাসনাইন (২২), আ. ছালাম হোসাইন (২২), মো. মাসুম বিল্লা (২২), মো. আবদুর রহমান (২৬) এবং সোলাইমান মামুন (৩১)। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি বোরহানউদ্দিনে। তাদের সবাই এখন জেল হাজতে রয়েছেন।

পুলিশের ওপর হামলার মামলায় এদের মধ্যে মো. আরিফ, মো. সজীব, আল-আমিন, মাসুম বিল্লাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে ভাওয়ালবাড়ী গৌর নিতাই আশ্রম মন্দিরের সভাপতি সত্য প্রসাদ দাসের দায়ের করা অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা মামলায় কামরুল ইসলাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার এসআই শরীফুল ইসলাম।

বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় ভোলা জেলা প্রশাসক গঠিত তদন্ত কমিটি ও পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রধানদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তদন্তের স্বার্থে এসব রিপোর্ট মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার জানান, ‘বোরহানউদ্দিনের ঘটনার পর পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। ভোলার পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।’

এদিকে বোরহানউদ্দিনের ঘটনার পর গঠিত ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবদুর রহমান খানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের সঙ্গে দেখা করেন। অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে দ্রুত তা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিসহ ছয় দফা দাবির স্মারকলিপি তুলে দেন তারা। নেতারা জানান, পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলায় অনেক নিরপরাধ মানুষও গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছে।

এদিকে যে ফেসবুক আইডি থেকে কথিত পোস্টটি দেওয়া হয় তা নিয়ে পুলিশ সদর দফতর এখনও কাজ করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারি ইন্দ্রজিত দে বলেন, ‘আমরা এখন আর তেমন আতঙ্কে নেই। তবে আমরা চাই, আমাদের বাড়িঘর ও মন্দিরে যারা হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হোক। যারা এমন নৃশংসতা চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার হওয়া উচিত।’

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here