দূর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার ফিরোজের সাথে মেয়র নাছিরের দীর্ঘ আলোচনা

0
78

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার ও একাধিক অস্ত্র, ডাকাতি, খুনের মামলার আসামি মো. ফিরোজ নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন। রাতারাতি পুরানো রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে নিজেকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ রয়েছে শিবিরের এই ক্যাডারের বিরুদ্ধে।

সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে বেশকিছুদিন আত্মগোপনে ছিলো ফিরোজ। আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানোর কথা গণমাধ্যমে জানায়। বিগত কয়েকদিন চট্টগ্রামের বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে ফিরোজ আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করার খবর প্রকাশ পেয়েছে।

শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে আত্মগোপনে থাকা ফিরোজকে প্রথমবারের মতো নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়। এসময় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে ফিরোজের সাথে বেশকিছুক্ষণ একান্তে কথা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, স্বাভাবিক হাস্যজ্জ্বল ভঙ্গিতে তাদের কথাবার্তা হয়। স্টেইজের উপর দাড়িয়ে একান্তে দুই/তিন মিনিট কথা বলেন তারা। পরে ফটোশেসনে অংশ নিতে সিটি মেয়রের পাশে দাঁড়ান শিবিরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিরোজ।

গতরাতে মেয়র নাছিরের সাথে এভাবেই প্রকাশ্যে আসে আত্মগোপনে থাকা শিবির ক্যাডার ফিরোজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কনে পক্ষের এক নিকটআত্নীয় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেয়র নাছির অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার সময়েও ফিরোজের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। গাড়িতে উঠার প্রাক্কালে মেয়র ফিরোজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সবকিছু আগের মতো চালিয়ে যাও। আমি কথা বলে রাখছি। কিছু প্রয়োজন হলে রায়হানকে (মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী) ফোন করলে হবে।

কে এই ফিরোজ?

শিবিরের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রনকারী ও আলোচিত এইট মার্ডার মামলার পলাতক আসামী সাজ্জাদ খানের সাথে সখ্যতার কারনে দূর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার হিসাবে পরিচিতি পায় ফিরোজ। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুবার পুলিশ ফিরোজকে গ্রেপ্তার করেছিল।

২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে সন্ত্রাসীরা ১১ লাখ টাকা লুট করে নেয়। মারধর করা হয় একজন চিকিৎসককে। ডাকাতি ঘটনার পরদিন নগরের বায়েজিদ থানার কয়লাঘর এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজ ও মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফিরোজের পাঁচলাইশের আস্তানা থেকে ১২ রাউন্ড গুলিভর্তি দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন, একটি একনলা বন্দুক, একটি বন্দুকের ব্যারেল, তিনটি কার্তুজ, দুটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই সময় নগরের বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন এ কে এম মহিউদ্দিন। তিনি ফিরোজের বিষয়ে বলেন, ‘২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আমি শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করি। শেভরন রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে ডাকাতির ঘটনায় সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। সে ওই সময় শিবির ক্যাডার ম্যাক্সন ও সরওয়ারের সঙ্গে থাকত।’ ওই দুজন এখন কারাগার থেকে বেরিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা জানায়।
ওসি মহিউদ্দিন বলেন, ‘ম্যাক্সন, সরওয়ার ও ফিরোজের গডফাদার হচ্ছে ভারতের কারাগারে বন্দী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন। বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করার আগে তাদের চাঁদা দিতে হতো। তারা ডাকাতি ও নাছিরাবাদ শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজি করত।’

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সনের সঙ্গে ফিরোজ চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি নাইনএমএম পিস্তলসহ আবারও ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জেল থেকে বেরিয়ে শিবির ক্যাডার ফিরোজ আ জ ম নাছিরের অনুসারী হয়ে নগরীতে বিলবোর্ড প্রকাশ করে। (ফাইল ছবি)

জানা গেছে, ২০১৫ সালে জেল থেকে জামিনে
বের হয়ে নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে দাবি করা শুরু করে ফিরোজ। এসময় সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের সাথে বিশেষ সখ্যতা তৈরী হয় ফিরোজের। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে মেয়রের সাথে ফিরোজের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড দেখা যায়। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

পুলিশ বলছে, ‘রিচ কিডস’ নামে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন ফিরোজ। অর্ধশতাধিক কিশোর ও তরুণ সক্রিয় রয়েছে গ্রুপে। নগরের মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, ষোলশহর ও পাঁচলাইশ এলাকায় সক্রিয় এই গ্রুপ। নগরের শানশাইন গ্রামার স্কুলের ছাত্রী তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায়ও জেলেও যান শিবিরের টপ টেরর ফিরোজ।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here