ভারতীয় ভিসার ‘ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক’ জরিমানা নীতিতে বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ

0
327

ভারতের ভিসা নীতিতে একটি বৈষম্যমূলক পরিবর্তন বাংলাদেশে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

প্রায় এক বছর আগে আনা ওই পরিবর্তনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানরা যদি ভারতে অবস্থান করে তাহলে সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দুদের থেকে ২০০ গুণ বেশি জরিমানা গুণতে হবে।

বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই জরিমানার বিধানকে ‘ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তারা ইস্যুটি তুলবেন বলে জানিয়েছেন।

দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কলকাতা সফরের সময় প্রথম এই ইস্যুটি সামনে আসে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাইফ হাসান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করন। তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশন অফিসকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন তারা এফআরআরও সম্পর্কে কথা বলেন।

এফআরআরও আইন

ওয়েবসাইটে দেয়া এই আইনের ভাষ্যে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্য ভারতীয় ভিসার মেয়াদের দুই বছরের অতিরিক্ত অবস্থানের জন্য ৫০০ রুপি, ৯১ দিন থেকে দুই বছর পর্যন্ত ২০০ রুপি এবং ৯০ দিন পর্যন্ত ১০০ রুপি জরিমানা করা হবে।

অন্যদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নয় এমন কেউ যদি অতিরিক্ত মেয়াদ অবস্থান করেন তাহলে তাকে জরিমানা গুণতে হবে ডলারে, উল্লেখিত মেয়াদগুলোর জন্য যথাক্রমে ৫০০ ডলার (৩৫,০০০ রুপি), ৪০০ ডলার (২৮,০০০ রুপি) ও ৩০০ ডলার (২১,০০০ রুপি)।

বাংলাদেশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার এই পত্রিকাকে বলেন, এর মানে হলো লিটন দাস (বাংলাদেশী ক্রিকেটার, হিন্দু) যদি ভারতে ওভার স্টে করেন তাহলে তাকে দিতে হবে ১০০ রুপি। আর তার জায়গায় যদি সাইফ হাসান নামের কেউ ওভার স্টে করেন তাকে দিতে হবে ২১,০০০ রুপি। হাসানকে সেটাই দিতে হয়েছে।

ওই কূটনীতিক বলেন, সম্প্রতি উপ হাইকমিশন অফিসের স্টাফদের চাঁদা তুলে একজন গরীব বাংলাদেশী মহিলাকে দেশে ফেরত পাঠাতে হয়েছে। তিনি একদিন বেশি ভারতে অবস্থান করেছিলেন। সেজন্য তাকেও ২১,০০০ রুপি দিতে হয়েছে। তার কোন টাকা ছিলো না। তার জন্য আমাদেরকে চাঁদা তুলে টাকার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। বাংলাদেশী ছাত্রের এফআরআরও এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ২১ হাজার রুপী জরিমানা দিয়ে এফআরআরও নবায়ন করতে হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটা  স্কুল কর্তিপক্ষের নিজদ্বায়ীত্তে করে দেওয়ার কথা কিন্তু যখনই তারা দেখলো এফআরআরও অফিস বিশাল অংকের জরিমানা করেছে তখনই তারা সেটা ঐ ছাত্রের গার্জিয়ানের উপর ফেল্লেন এবং তা ঐ ছাত্রের বাবার কাছ থেকে আদায় করে ছেড়েছেন । এটা কখনোই হতে পারে না। ধর্মের ভিত্তিতে কেন বৈষম্য করা হবে?

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে একই দৃষ্টিতে দেখার জন্যও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।

ভারত ঐতিহাসিক ও নৈতিকভাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে একই বন্ধনিতে আবদ্ধ করতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন ওই কর্মকর্তার।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here