বিনম্র শ্রদ্ধায় মেধাবী সন্তানদের স্মরণ করছে জাতি

0
98

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর আল শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এর ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

বিনয় এবং শ্রদ্ধায় জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে। একইসঙ্গে এবারও জাতির প্রত্যাশা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে যারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছে অথবা পলাতক আছে তাদের বিচারের রায় কার্যকর করা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনে আজকের এই দিনে দেশকে মেধাশূন্য করতে দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় মেতে ওঠে পাকিস্তানী ঘাতকরা। আর তাদের সহযোগিতা করে এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকাররা। পাকিস্তানি ঘাতকেরা চেয়েছিল বাঙালিকে মেধা-মননশূন্য করতে। এ জন্য তারা বেছে বেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিকসহ বিশিষ্টজনদের। তাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানী ঘাতকরা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শনিবার ভোর থেকেই মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ঢল নামে জনতার। দিবসের শুরুতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাতটায় তাঁরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হাজার হাজার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে।

বৃদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। জাতীয় পতাকা আর শ্রদ্ধার ফুল হাতে নানা বয়সের হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছেন বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে।

তাদের স্মরণ করতে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসেছেন শহীদদের পরিবারের সদস্যরা।

রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।

এছাড়া নানা আয়োজনে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় পালন করা হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবিস। বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here