তারেক আতঙ্কে দুই প্রার্থী

0
97

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপির দুই প্রার্থী উত্তরে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে ইশরাক হোসেন। তারা সকাল থেকে রাত অবদি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু এই দুই প্রার্থী তারেক আতঙ্কে ভুগছেন। সময় অসময় তারেক তাদেরকে ফোন করছেন এবং তাদেরকে উদ্ভট নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তারেকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এরা প্রায়ই তারেকের ফোন ধরছেন না। এতে তারেক আরো ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছেন এবং বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ফোন করে নানা রকম পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিএনপির এক নেতা বলেছেন, তারেক লন্ডন থেকে ফোন করে দুই প্রার্থীকে যে পরামর্শ দিচ্ছেন, সেই সব পরামর্শ যদি দুই প্রার্থী শোনেন তাহলে নির্বাচনে ভরাডুবি অনিবার্য। এজন্যই দুই প্রার্থী তারেককে এড়িয়ে যাওয়ার পন্থা অবলম্বন করছেন। যদিও তারেককে এড়িয়ে  যাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ দুই প্রার্থীর সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে তারেকের এজেন্টরা জড়িত রয়েছে।

একটি সূত্র বলছে নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিনিময়ে তারেক ২০ কোটি টাকা দাবি করেছেন। আর এখন পর্যন্ত এই টাকাটি তারেকের কাছে পৌঁছায়নি। এই কারণেই তারেক মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, তারেকের কাছে বিএনপির জয়-পরাজয় কোনো বড় বিষয় নয়। যেহেতু তারা মনোনয়ন পেয়েছে সেজন্য তাদেরকে তারেকের কাছে টাকা দিতে হবে। মনোনয়ন বাণ্যিজ্য এখন তারেকের উপার্জনের প্রধান বাহন। এজন্য তারেক চাইছেন তার টাকাটি যেন দ্রুত দুই প্রার্থী তাকে বুঝিয়ে দেয়।

কিন্তু বিএনপির দুই প্রার্থী এবার যেহেতু নির্বাচনে প্রচারণায় সুযোগ পাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন বা সরকার দলের পক্ষ থেকে কোনো বাধার শিকার হচ্ছেন না সেজন্য তারা ক্রমশ প্রচারণায় উৎসাহী হচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীরাও এই নির্বাচনের ব্যাপারে প্রথম অস্বস্থিতে থাকলেও এখন তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইছে। কিন্তু তাদের স্বতঃস্ফূর্ততা বাধা দিচ্ছেন তারেক।

একাধিক সূত্র বলছে সর্বশেষ গত শনিবার দুই প্রার্থীর সঙ্গে তারেক স্কাইপে কথা বলেছিলেন। সেই সময় তারেক জিয়ার আহ্বান সম্বলিত কিছু বক্তব্যও প্রচার করার জন্য দুই প্রার্থীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই প্রার্থী এখন পর্যন্ত তাদের প্রচারণায় তারেক জিয়ার নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করছেন না।

বিএনপির একজন নেতা বলছেন কৌশলগত কারণে তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণ করা হচ্ছে না। জনগণের মধ্যে বিশেষ করে ঢাকাবাসীর মধ্যে তারেকের ইমেজ অত্যন্ত নেতিবাচক। কারণ তারেক একজন ‍দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত। তাছাড়া দলের নেতাকর্মীদের কাছেও তারেকের ইমেজ এখন টলটলায়মান। এ কারণে দুই প্রার্থীই মনে করছেন তারেককে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র খালেদা জিয়া এবং নগরির ইস্যু নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে। আর এখানেই তারেকের তীব্র আপত্তি। তারেক মনে করছেন যে এই নির্বাচনে যদি তাকে নিয়ে আলোচনা না হয় তাহলে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি নি:শেষিত হয়ে যাবেন। এ কারণেই তিনি বারবার করে তার বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য এবং তাকে সামনে নিয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। যদিও সেই নির্দেশনা এখনো সেই  সূত্রে হয়নি।

আর এখানেই বিএনপির নেতারা আশঙ্কা করছেন যে, শেষ পর্যন্ত তারেকের নিজস্ব যে বাহিনী আছে যারা নির্বাচনী প্রচারণায় সার্বক্ষণিক ভাবে তাবিথ আউয়াল এবং ইশরাক হোসেনের সঙ্গে রয়েছেন তারা যদি বেকে বসেন তাহলে এই নির্বাচনে বিএনপি আরেকটি ভরাডুবির মুখ দেখবে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here