“উন্নয়নের রাস্তা আছে গাড়ী চলেনা” দখলে মিলছে না ছয় লেনের সুফল

0
136

বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক”

পুরোপুরি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। প্রায় ৯ বছর দীর্ঘ ভোগান্তির পর নতুন করে নির্মিত শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কটি খুলে দেওয়া হলেও সুফল ম্লান হতে বসেছে নতুন করে অবৈধ দখলে। শাহ আমানত সেতু হতে বহদ্দারহাট পর্যন্ত নগরীর ৫ কিলোমিটার অংশে উভয় দিকের বাম পাশের লেন দুটিতে গাড়ির গ্যারেজ, কমিউনিটি সেন্টারের পার্কিং ও দোকানের মালামাল রেখে দখল করে সংকুচিত করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৮ উপজেলার সাথে মেলবন্ধন তৈরি হয়। তবে ওই সময় থেকে সেতু ব্যবহার শুরু হলেও ওই প্রকল্পের আওতায় সংযোগ সড়কটি নির্মিত না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সড়ক ব্যবহারকারী লাখো মানুষ। পরবর্তীতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হয় সংযোগ সড়কটি সম্প্রসারণ। ফলে দীর্ঘ সময় দুই লেনের সড়ক দিয়ে নিত্য যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাতায়াতকারী লোকজনদের। পরবর্তীতে সেতুর উভয় পাশে ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক প্রশস্ত করার জন্য উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ২০১২ সালে ১৩ জুন দাতা সংস্থা কেএফএইডি (কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট) এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সংশোধিত ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, শাহ আমানত সেতুর উভয় পাশে ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য ২৭০ কোটি টাকার সংশোধিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। তম্মধ্যে ১০৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেয় কেএফএইডি। অবশিষ্ট ১৬৩ কোটি টাকা জিওবি ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়। ২০১৭ সালের ৬ মার্চ সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় শিকলবাহা ক্রসিং থেকে মইজ্যারটেক পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত চার লেন এবং নগর অংশে নতুন ব্রিজ গোলচত্বর থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার ৬ লেনের সড়ক নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ শেষ করে গত ৮ জানুয়ারি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়। তবে নগরীর ৫ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ অংশে বাম পাশের লাইনটিকে ব্যবহার উপযোগী করা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শাহ আমানত সেতুর গোলচত্বর এলাকায় পূর্বপাশে সড়কের উপর স্টপেজ তৈরি করা হয়েছে। নতুন ব্রিজ থেকে রাজাখালী পর্যন্ত উভয় দিকের একটি লেনের বিভিন্নস্থানে ট্রাক, বাস পার্কিং করে রাখা হয়েছে। কোথাও গ্যারেজ বানিয়ে সড়কে গাড়ি মেরামত করা হচ্ছে। রাজাখালী মোড়ে চাক্তাই প্রবেশের জন্য মূল সড়কের বাম পাশ দখল করে রাখে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান। তুলাতলী এলাকায় বামপাশের লেনটি অসংখ্য গাড়ির দখলে চলে গেছে। এখানকার কমিউনিটি সেন্টারে আসা গাড়িগুলো সড়কের বাম লেনে পার্কিং করা হয়েছে। তুলাতলী এলাকায় সড়কের উপর তৈরি করা হয়েছে আবর্জনার ভাগার। একইভাবে কল্পলোক আবাসিকের লাগোয়া উভয় দিকে দখলে রাখা হয়েছে বামপাশের লেন। সড়কের কালামিয়া বাজার ও রাহাত্তারপুর ওভার পাস বাদে পুরো সড়কের উভয় দিকের বাম লেন একেবারে ব্যবহার অনুপযোগী। ওভারপাস দুটির নীচেও সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভারের পর আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সড়ক হয়েছে শাহ আমানত সেতু বহদ্দারহাট সংযোগ সড়কটি। নতুন ব্রিজ থেকে ফিরিঙ্গিবাজার কোতোয়ালী হয়ে আগ্রাবাদ যেতে যে সময় লাগে, তার চেয়ে বহদ্দারহাট সংযোগ সড়ক হয়ে ফ্লাইওভার দিয়ে আরো কম সময়ে আগ্রাবাদ যাওয়া যায়। নতুন ব্রিজ থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে কোন বিরতি দিতে হয় না। এ সড়কটির মাধ্যমে উন্নয়নে নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। তবে সড়কটি ব্যবহার শুরু হতে না হতে দুই দিকের দুই লেইনে বিভিন্ন স্থানে গ্যারেজ, পার্কিং বানিয়ে রাখা হয়েছে। এতে পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আমদানিকারক ব্যবসায়ী মাহবুব রানা দৈনিক আজাদীকে বলেন, বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত আগে যেখানে এক থেকে দেড়ঘণ্টা লাগতো এখন ৫-৭ মিনিটে যাওয়া যায়। কিন্তু ৬ লেনের সড়কটি বাম পাশের লেনে কোথাও রাখা হয়েছে বিকল গাড়ি, কোথাও দোকানের মালামাল। সড়কের এক পাশ দখল করে পার্কিং করা হয় প্রাইভেট গাড়িও। এতে সড়কটি মূলত ৪ লেনে পরিণত হয়েছে। তুলাতলী এলাকায় বেশিরভাগ সময়ে একটি গাড়িও যেতে বাধা পড়তে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে সড়কটি আরো বেশি সুফল দেবে বলে মনে করেন তিনি।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ দৈনিক আজাদীকে জানান, ‘শাহ আমানত সেতুর উভয় পাশে ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক চট্টগ্রামের উন্নয়নে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে। সড়কটি আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ অবকাঠামোতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। প্রশস্তকৃত সড়কটির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কঙবাজার, বান্দরবান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকজনদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সক্ষম হয়েছে।’
সড়কটি বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত ৮ জানুয়ারি আমরা ঠিকাদার থেকে সড়কটি বুঝে নিয়েছি। নগরীর অংশের ৬ লেনের কয়েকটি স্থানে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। আমরা উভয় দিকের বাম পাশের লাইনটি নির্বিঘ্ন করার পদক্ষেপ নেব।’

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here