রাজাকার পুত্র আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক,চাদাবাজি করে শতকোটি টাকার মালিক

0
163

চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ মাইনুদ্দিননের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর জেলা হাজীগঞ্জ উপজেলার শান্তি কমিটির বেতন ভুক্ত রাজাকার গিয়াস উদ্দিনের পুত্র মাইনুদ্দিন এলাকায় রাজাকার পুত্র হিসেবেই বেশি পরিচিত। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের প্রকাশকৃত রাজাকারের তালিকায়ও রয়েছে মাইনুদ্দিন চেয়ারম্যানের পিতা গিয়াস উদ্দিনের নাম।

এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদা বাজি সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার অপকর্মের বিরোধ কেউ করলে তাকে করা হয় নির্যাতন। কিছুদিন আগে চাঁদপুর জেলা হাজীগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুজিবুর রহমানকেও মাইনুদ্দিন তার টর্চার সেলে নিয়ে করেছেন ভয়ঙ্কর নির্যাতন। দিন দুপুরে রাস্তা ঘাটে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমন যেন তার কাছে পান্তা এমনটাই অভিযোগ করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুজিবর রহমান বিডি পলিটিকাকে বলেন, মাইনুদ্দিন আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় তার টর্চার সেলে। সেখানে মাইনুদ্দিনের তৈরি একটি কাগজে তার পিতা রাজাকার নন এমন কিছু লেখা সেই পত্রে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও তার গুন্ডা বাহিনী দিয়ে ভয়ঙ্কর শারীরিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।এরপর আমি থানায় সাধারণ ডাইরি করি ও সাংবাদিক সম্মেলন করেও প্রতিবাদ করি। কিন্তু মাইনুদ্দিনের অবৈধ ক্ষমতার কাছে মনে হচ্ছে সব প্রতিবাদ হেরে যাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভাগ্যের রাতারাত্রি পরিবর্তন করেন।

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হাজিগঞ্জের এই সমালোচিত মাইনুদ্দিন চেয়ারম্যান। তিনি গত বছর টিনের ঘর ছেড়ে উঠেছেন পৈতৃক ভিটায় নিজের তৈরি ৩ তলা ভবনে। তার বসবাসের বাড়িটি নির্মাণেই খরচ হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। হাজীগঞ্জ পৌরসভা মার্কেটের পিছনে ৬ তলা বিশিষ্ট আরেকটি আলিসান বাড়ি এবং কুমিল্লা জেলা শহরে ১টি ৭তলা বাড়ি রয়েছে। হাজীগঞ্জ ডাকাতিয়া নদীতে রয়েছে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩টি বালুর জাহাজ।

এছাড়াও হাজীগঞ্জ মিডিও হাসপাতালের আশেপাশে অবৈধ অর্থে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রীর নামে রাখা বিপুল পরিমাণের জমি কেনা রয়েছে। ঢাকাতে উত্তরা,বারিধারাতেও রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট।

অভিযোগ রয়েছে হাজীগঞ্জ রয়েল মার্কেটের তৃতীয় তলায় তার নিজের উদ্যোগে বসানো হয় মদ ও জুয়ার আসর।

সেখানে জুয়া খেলার পাশাপাশি নিয়মিত মাদক সেবন ও বেচাকেনা করা হয়।এতে অতিষ্ঠ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ রয়েছে গ্রামের সাধারণ যুব সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মাইনুদ্দিন।

এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে এলাকার বাস স্ট্যান্ড এর চাঁদার ভাগ আসতে শুরু করে নিয়মিত। রয়েছে দখল বাণিজ্য,অবৈধ ভাবে জমি কেনাবেচা,বিভিন্ন স্কুল কলেজের ভর্তি বাণিজ্য,স্কুল কলেজের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য,কমিশন বাণিজ্য,বদলি বাণিজ্য,টিআর কাবিখা,গ্রামের বাজারে সুদের ব্যবসা,থানায় দালালি, ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ বাণিজ্য, বিদ্যুৎ বাণিজ্য, উপজেলা কমিটিতে পদ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায় বিগত ১০ বছর আগেও তিনি হাজীগঞ্জ বালুর মাঠের ছোট দোকানে টং দোকানে রিক্সা-ভ্যানের পিছনে চিত্র অংকন কাজ করতেন। সামান্য আয়েই সংসার চলতো মাইনুদ্দিনের। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তার অবস্থার পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাকর্মীরা বলেন, টানা ১৪ বছর আওয়ামী লীগের এই পদ হল তার অর্থের মুল উৎস। গত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগের উপজেলা পদ মাত্র ২বার বদল হয়েছে। কিন্তু মাইনুদ্দিনের পদ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান পদটি। এখন তার অপকর্মের পদের ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। মাইনুদ্দিনের বাড়ি উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মকিমাবাদ এলাকায়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি, স্ট্যান্ড দখলের সাথে জড়িত। গত মার্চে উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

হাজীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন,তার সম্পর্কে লোক মুখে কিছুটা অভিযোগ শুনেছি। তবে তার সাথে আমার কিছু দূরত্ব রয়েছে। আমি আপাদত এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির ভুঁইয়া, সাংবাদিক শুনে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকার জানান।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here