বাংলাদেশকে অবহেলা করলেই পস্তাতে হবে ভারতকে- আশংকা ভারতের

0
111

চিন্তার বলিরেখা সব সময় কপালে চিহ্ন রেখে যায় না। কিছু কিছু চিন্তা কপালে ভাঁজ পড়তে বাধ্যকরবেই।

ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১ মাস যাবৎ নাগরিকত্ব নিয়ে যা ঘটে চলেছে সেটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়।  কিন্তু কোন আভ্যন্তরীণ বিষয় যখন পাশ্ববর্তী দেশকে প্রভাবিত করে তখন সেটা আর আভ্যন্তরীণ থাকে না।  তারপরেও আমরা এটা বিশ্বাস করে বসে আছি যে, সব কিছুই ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়।

কিছু কিছু আভ্যন্তরীণ বিষয় রাজনৈতিক ভাবে দলকে সুবিধা দিলেও অন্যদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সেটাই হয় সবচেয়ে বড় বাঁধা।  হয়তো ভারতের নাগরিকত্ব বিল বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে সবচেয়ে বড় বাঁধা হতে চলেছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তেমন ইঙ্গিত দিয়েছে বলেই ভারতের নীতি নির্ধারকদের ধারণা।

আর এস এস এর মুখপাত্র, অর্গানাইজার পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও বিজেপির কর্মসমিতির সদস্য শেষাদ্রি চারি তার এক নিবন্ধে ভারতের কপালে চিন্তার বলিরেখার দিক ইঙ্গিত করেছেন। বাংলাদেশ ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়েছেন।  তিনি তার নিবন্ধে ভারতের এখন দুইটি বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন।

১। নাগরিকত্ব বিল বাস্তবায়ন করা

২। বাংলাদেশকে নিজেদের দলে রাখা।

তিনি আশংকা করেছেন, ভারতের এই নাগরিকত্ব বিল বাংলাদেশকে চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে দ্বিগুণ গতিতে। একদিকে তারা বলছে এটা তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার, অন্যদিকে আবার হুমকি দিচ্ছে ১ কোটি মানুষকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠাবে।

আমাদের ধারণা যে হুমকি তারা দিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ অথর্ব, বাংলাদেশ অথর্ব বা এটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি।

শেষাদ্রি চারি সহ বিজেপির মধ্যে বড় একটি অংশ রিতীমত ঘামতে শুরু করেছে যে, বাংলাদেশকে হয়তো তারা হারাতে বসেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে একসময়ে অস্বস্তিতে থাকা চীন এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ বিনিয়োগকারি দেশ। সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি সহযোগী দেশ। বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি অবদান চীনের।

অন্যদিকে ভারত তার অর্থনীতির সূচক দিন দিন হারিয়ে চলে যাচ্ছে অতলে, হয়তো মাজা সোজা করে দাঁড়াতে তাদের পার করতে হবে কমপক্ষে ৫০ বছর শান্তিময় সময়। মুখে না বললেও গ্রাফ সেটাই বলে।

ভারত নাগরিকত্ব বিল নিয়ে আভ্যন্তরীণ বলে বলে সুরেলা আওয়াজ দিলেও কার্যত সেটা নয় তার প্রমান দিয়েছে – পশ্চিম বঙ্গের এম পি দিলীপ ঘোষ ১ কোটি মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবার কথা বলে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও বলছেন “খেলা চলবে”। যদি তাই হয় তাহলে ভারত তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়কে ধর্মীয় চাদরে মুড়ে দিতে চাইছে। যদি তাই হয় সেটা নিশ্চই শুভকর হবে না।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতোদিন কিছুই বলেননি। মাত্র একটি লাইন তিনি উচ্চারণ করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে।

আর তাতেই দফায় দফায় মিটিং, বিবৃতি ইত্যাদিতে ভারতের মিডিয়া ছয়লাব।

যাইকিছু হোক, ভারত যদি বাংলাদেশকে অবহেলার চোখে দেখে সেটা হবে তাদের বড়ভুল। এটাই সারকথা। ভারতের নীতি নির্ধারকদের ধারনা অমূলক নয়।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here