বিএনপি’র পাশে নেই জামায়াত, দৃশ্যমান নয় ২০ দলও

0
52

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগের রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকেন জোটের প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ২৭ ডিসেম্বর রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়েছে ২০দল।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০ দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপির একাংশের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, আরেক অংশের সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যেজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব, জাগপার একাংশের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদ খান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকের আগের দিন গুলশান কার্যালয় থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ফোন দেওয়া হয়। তবে সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগের রাতে ডাকা ওই বৈঠক সচেতনভাবেই এড়িয়ে যায় ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াত। অন্য বৈঠকগুলোতে জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে দলটির মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম উপস্থিত থাকলেও সেদিনের বৈঠকে তিনি ছিলেন না। তারপরও বৈঠক শেষে জোটের প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে ২০ দল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়ে গত আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছড়ি ঘুরালেও সংকটের সময় বিএনপিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না জামায়াত। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই বিএনপিকে চোখ ‘উল্টানি’ দিতে শুরু করে তারা।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ছয় মাস পর ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে একক প্রার্থী দেয় জামায়াত। নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে ২০ দল। এর কিছুক্ষণ পরই বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াতের প্রতিনিধি মাওলানা আব্দুল হালিম গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে জামায়াত মর্মাহত। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি জামায়াত।’

শুধু তাই নয়, গত বছর বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমকে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠন করায় জামায়াত। জোটের ভেতরে আরেকটি জোট গঠনের মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে দলটি।

সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির সম্পৃক্ততাকে ভালমতো নিতে পারেনি জামায়াত। সে কারণেই জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে না জামায়াত। সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা বৈঠকেও যাচ্ছে না তারা।

এ বিষয়ে জানতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

শুধু জামায়াত নয়, জোটের অন্য শরিকরাও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের গণসংযোগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের দেখা গেলেও ২০ দলীয় জোটের কাউকে দেখা যায়নি।

অবশ্য ২০ দলীয় জোটের শরিকদের অভিযোগ, বিএনপি নাকি জোট শরিকদের গুরুত্বই দিচ্ছে না। তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের যেভাবে মূল্যায়ন করছে, গুরুত্ব দিচ্ছে, সেভাবে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মূল্যায়ন করছে না।

জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বিএনপি তো বাম দলের হরতালে সমর্থন দেয়। তাই বলে কি মাঠে নেমে হরতাল সফল করে? আমরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু মাঠে নামিনি। অবশ্য বিএনপিও আমাদের মাঠে চাচ্ছে না। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে ঢাকা উত্তরে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে তিন/চার দিন প্রচারণায় অংশ নিয়েছি।’

জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শরিক দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন আছে। তারা তাদের সাধ্যমতো প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ২০ দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here