কূটনীতিকদের প্রশ্নে বেসামাল বিএনপি

0
221

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের অন্ত নেই। দলটির অভিযোগ এই দুইটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। এমন কিছু অভিযোগ নিয়ে নির্বাচনের পর থেকেই অত্যন্ত সরব বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। তারা এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এছাড়া গতকাল বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা এই নির্বাচনে যে সমস্ত কারচুপি হয়েছে সেই সমস্ত ফিরিস্তি উপস্থাপন করেছেন।

কিন্তু বিএনপির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মতবিনিয়ম সভায় আসা কুটনীতিকরা নির্বাচনে কারচুপির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যখন বিস্তারিত জানতে চান তখন বিএনপির নেতৃবৃন্দ তার জবাব দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে কুটনৈতিকদের প্রশ্নবাণে বিএনপি বেসামাল হয়ে পড়ে।

কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক আর্ল রবার্ট মিলার জানতে চান, কোন ইভিএম মেশিনে ধানের শীষ প্রতীক ছিল না। তখন বিএনপির দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন জানান মেশিনে ধানের শীষ প্রতীক ছিল না। এই অভিযোগকে খন্ডন করে তিনি বলেন, একটি মেশিনে ধানের শীষ থাকবে না এটা বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব না। আর এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ আছে কিনা অর্থাৎ স্নাপশট বা ছবি তুলেছেন কিনা? তখন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন এর কোনো জবাব দিতে পারেননি।

কূটনীতিকদের তরফ থেকে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, অনেক জায়গা থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।  এ সময় ভারতের একজন কূটনীতিক জানতে চান কোন কোন এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনে এ নিয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ করেছে কিনা এবং বের করে দেওয়ার প্রেক্ষিতে তারা রিটার্নিং অফিসারের কাছে কোনো অভিযোগ করেছে কিনা বা তার কোনো কপি আছে কিনা? এই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দিতে পারেননি বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

কূটনীতিকদের তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, বিএনপি অভিযোগ করছে অনেককে সনাক্তকরণের পরও তাকে আর ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। ভোটারের সনাক্তকৃত হওয়ার পর ইভিএম মেশিনে আওয়ামী লীগের লোকজন ভোট দিয়েছে।

এরকম অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানতে চান যারা এরকম ভোট দিতে পারেনি তাদের কোনো তালিকা আছে কিনা? বা কতজন এভাবে ভোট দিতে পারেনি। এই প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেননি বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

কূটনীতিকদের এ রকম অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে এক সময় বিএনপি বেসামাল হয়ে পড়ে। এ সময় বিএনপির তরফ থেকে বলা হয় আপনার জানেন কি হয়েছে, কেনো অভিযোগ করা হয়েছে?

কূটনীতিকদের তরফ থেকে জানতে চাওয়া হয় ভোটার উপস্থিতি কোনো কম ছিল? ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য বিএনপিরও দায় আছে কিনা? তবে এই প্রশ্নেরও সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি বিএনপির নেৃতবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে বিএনপি যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, নির্বাচনে তারা যেভাবে প্রচার প্রচারণা করেছে সেটাকে সাধুবাদ জানায়। আর ভবিষ্যতে বিএনপির যেন এরকম ভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যহত রাখে এবং জনগণ যেনো ভোট কেন্দ্রে যায় তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যার ফলে যে আশায় কুটনৈতিকদের কাছে বিএনপি গিয়েছিল এবং যে প্রত্যাশা করে অভিযোগের ঢালি সাজিয়েছিল তা ভেস্তে যায়।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here