পরকীয়া সন্দেহে অভিনেত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

0
117

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের নৈনিতাল থেকে বুধবার টেলিভিশনের এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, ২৯ বছর বয়সী ওই অভিনেত্রীকে অচেতন করে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। গোটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিনেত্রীর স্বামী। খুনের কারণ হিসেবে পুলিশের সামনে এসেছে পরকীয়া সম্পর্ক।

খুন হওয়া অভিনেত্রীর নাম অনিতা সিং। উত্তরাখণ্ড পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওই অভিনেত্রীকে সন্দেহের চোখে দেখতেন তার স্বামী। ধরে নিয়েছিলেন স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত। যদিও ওই ব্যক্তির হাতে তেমন কোনো প্রমাণ ছিল না।

নৈনিতাল জেলা পুলিশের প্রধান সুনীল কুমার মীনা জানান, জেলা সদরদপ্তর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নৈনিতালের কালাধুঙ্গি থেকে অনিতার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তিনি পাঞ্জাবি টেলিভিশনের অভিনেত্রী। অনিতার স্বামী রবীন্দর পাল সিং ও তার এক বন্ধু কুলদীপকে এই খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, মঙ্গলবার স্বামী রবীন্দরের সঙ্গে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর থেকে নৈনিতালে আসেন অভিনেত্রী। অনিতাকে সে জানায়, নৈনিতালে কুলদীপ নামে তার এক বন্ধু আছে। ওই বন্ধুর সঙ্গে বলিউডের অনেকের যোগাযোগ রয়েছে। মুম্বাইয়ে অভিনয়ের সুযোগ করে দিতে পারে কুলদীপ।

সেই টোপ গিলে সরল বিশ্বাসে ৬০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ফিরোজপুর থেকে নৈনিতালে আসেন অনিতা। রবীন্দর যে তাকে খুনের ফন্দি এঁটেছে, তার বিন্দুবিসর্গ টের পাননি অনিতা।

মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ কুলদীপের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করে স্বামী-স্ত্রী। সেখানে চায়ের সঙ্গে মাদক জাতীয় নেশার দ্রব্য খাইয়ে দেয়া হয় অনিতাকে। বেহুঁশ হয়ে পড়লে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুজনে। ঘটনাস্থলের অদূরেই কুলদীপের বাড়ি। তিনি চলে যান সেখানে এবং রবীন্দর ধরেন দিল্লির ট্রেন।

রেস্তোঁরার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। জেরায় অভিনেত্রীর স্বামী জানায়, কাশ্মীরি কোনও ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে বলে সে সন্দেহ করত। অনিতা যখন স্বামীকে জানান, বলিউডে অভিনয়ের জন্য তিনি মুম্বাই যেতে চান, তখনই খুনের পরিকল্পনা করেন।

রবীন্দর ও তার বন্ধু কুলদীপের বিরুদ্ধে খুন ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here