শাবনূরকে নিয়ে স্ত্রীর দ্বন্দ্বের জেরে আত্মহত্যা করেন সালমান

0
80

বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্ত্রীর দ্বন্দ্বের জেরে ৯০ দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সালমানের মৃত্যু নিয়ে তদন্তকারী সংস্থাটির তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই মহাপরিচালক ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

সংবাদ সম্মেলনে মনোজ কুমার জানান, ‘হত্যা নয়, আত্মহত্যাই করেছিলেন সালমান শাহ। শাবনূরকে বিয়ে করে দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী সামিরা সতীনের ঘর করতে রাজি ছিলেন না। এখান থেকেই পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে কলহের শুরু।’

পিবিআই আরও জানিয়েছে, আগে থেকেই সামিরার সঙ্গে তার শ্বাশুড়ির ঝগড়া-বিবাদের ফলে সালমান শাহ ১৯৯১ সালে দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেসময় সালমান শাহ একবার ৯০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন এবং একবার সেভলন খেয়েছিলেন।

৯০ দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে জুটি বেঁধে বেশকিছু ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছিলেন সালমান শাহ। এই জুটির রসায়নও ছিল আলোচিত।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, শাবনূরের সঙ্গে তার অতিরিক্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক সালমান শাহর আত্মহত্যার অন্যতম কারণ।

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘শাবনূরের সঙ্গে এই অন্তরঙ্গ সম্পর্কের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ছিল সালমান শাহর। এছাড়া মায়ের প্রতি তার অসীম ভালোবাসা এবং জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পুঞ্জিভূত আবেগ অভিমানে রূপ নিয়েছিলে সালমানের। সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতাও ছিল তার।’

বনজ কুমার বলেন, ‘সালমান শাহ ছিলেন অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। যে কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন তিনি। এসবকিছু মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত সালমান শাহ আত্মহত্যাকে নিজের জীবন শেষ করার পথ হিসেবে বেছে নেন।’

এদিকে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও সহ-অভিনেতা শাবনূরের সঙ্গে কথোপকথনে বিপরীতধর্মী বক্তব্য পেয়েছে পিবিআই। সালমান শাহর সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শাবনুর। এই চিত্রনায়িকার বরাত দিয়ে পিবিআই প্রধান বলেন, ‘একজন অভিনয় শিল্পী হিসেবে সহযোগী শিল্পীর সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন, সালমান শাহর সঙ্গে তার তেমন সম্পর্কই ছিল। এর বাইরে কোনও সম্পর্ক ছিল না।’

বনজ কুমার বলেন, ‘১০ জন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি পর্যালোচনা করে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকসহ সবার মতামত বিশ্লেষণ করে প্রমাণ পাওয়া যায়, সালমান শাহ খুন হননি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’

বনজ কুমার জানান, পিবিআই তাদের তদন্তের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনা করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রথম ও দ্বিতীয় সুরতহাল প্রতিবেদন, প্রথম ও দ্বিতীয় ভিসেরা প্রতিবেদন, কেমিক্যাল প্রতিবেদন, প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের মতামত, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়া সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের মতামত।

এছাড়া রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ ও জরিনা বেগমের অডিও রেকর্ড, সাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি, ঘটনা সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রেকর্ড করা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় দেয়া জবানবন্দি, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা, আগের তদন্ত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন দালিলিক সাক্ষ্য, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য, কাগজপত্র ও অন্যান্য সাক্ষ্য পর্যালোচনার বিষয়গুলোও পিবিআইয়ের তদন্তে বিবেচনা করা হয়েছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here