রাজীবের কবরটা পর্যন্ত রাখেননি খোকা ও বিএনপি

0
111

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রয়াত খল অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজীব। যিনি রাজিব নামেই বেশি পরিচিত। তিনি বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সভাপতিও ছিলেন। বিএনপির সময় এফডিসির এমডি ছিলেন। রাজিব ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্ত্র হয়ে ৫২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। অনেকেই জানেন মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তাকে কিভাবে বিএনপি ছুড়ে ফেলেছে। তার কিছুটা বললেন তার স্ত্রী ইসমত আরা।

তিনি জানিয়েছেন, নিছক লোক দেখানো দুই লাখ টাকার চেক দিয়ে সাহায্য করেছিলেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর পরও বিএনপি রাজীবের জন্য আলাদা কোন সুবিধা দেয়নি। এমনকি তার পরিবারেরও খোঁজ নেয়নি। অথচ সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল।

মৃত্যুর পর ঢাকার উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। দু:খের বিষয় হলো রাজিবের স্ত্রী ইসমত আরা দিনের পর দিন খোকার কাছে ধর্ণা দিয়েছিলেন কবরের জন্য। তিনি বলেন, একটা জিনিস খারাপ লাগে আমার দুই জমজ ছেলে জয়- বিজয়ের কবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে। উনি বলেছিলেন, চিহ্ন রেখে দিও যদি কখনো খারাপ লাগলে তুমি যেন আমাদের কবর দেখতে যেতে পারো। ওনার মৃত্যুর পর ওখানে কবর দেওয়া হয়। সাদেক হোসেন খোকা সাহেবের কাছে আমি অনেকবার গিয়েছিলাম। লোক দিয়ে বলিয়েছি। খোকা ভাইকে হাত জোর করে বলেছি, আমি টাকা পয়সা কোন সাহায্য চাই না। বিএনপির জন্য তো উনি অনেক করেছেন, শুধু এটুকু চাইতে এসেছি। আমার দুই বাচ্চা আর রাজিব সাহেবের কবর তো একসঙ্গে। ওদের কবরটা যেন না ভাঙ্গে। চিহ্নটা রেখে দেন। আপনি যদি সেই পারমিশনটা দিতেন। অনেকবার গেছি। লোক পাঠিয়ে অনুরোধ করেছি। কিন্তু সেটা আমি রাখতে পারিনি। ওনারা সেটা গ্রাহ্য করেনি। বিএনপির অনেকের কাছেই বলেছি।’

তিনি বলেন, এতকিছু করার পরে ওইটুকু করা যেত। ওনার পরিবারের জন্য অতটুকু করা যেত। আমরা তো কোন সাহায্য চাইতে যাইনি মারা যাওয়ার পর। গাড়ি বাড়ি প্লট চাইতে তো যাইনি। শেষ স্মৃতিটুকু যেন ধরে রাখতে পারি সেটা চাইতে গিয়েছিলাম শুধু।’

রাজিবও খোকার কাছে নিজে আবদার করে গিয়েছিলেন। রাজীবের স্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের দিক দিয়ে কারো কবর আলাদা করে রাখার কোন মানে রাখে না। কিন্তু আমাদের একটু ইমোশন ছিল। উনি জীবিত থাকতেও বলে গিয়েছিলেন, খোকা ভাই আমি যদি মারা যাই, আমার কবরটা রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েন। কিন্তু সে কথা তিনি রাখেননি।’

এখন কি অবস্থায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো আর থাকার কথা না। রাখার জন্য একটা স্পেশাল পারমিশন লাগে। সেটা তো আর পেলাম না।’

তিনি আরো জানান,‘কারো কাছে চাঁদা চেয়ে রাজীব সাহেব কখনো প্রগ্রাম করেননি এফডিসিতে। বিএনপির পদ তাকে জোর করেই দেওয়া হয়েছিল। সে বলেছিল আমি শিল্পী হিসেবেই বাঁচতে চাই। অন্য কোন পরিচয় লাগবে না। কিন্তু তখনকার দিনে রাজীব সাহেবের স্টারডম তারা কাজে লাগিয়েছে। আর সরকারের উঁচু মহল থেকে যখন বলা হয়, তখন তো কিছু বলার থাকে না। রাজীব সাহেব জীবদ্দশায় তার দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করেছেন।’

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here