বিশ্বনেতাদের কাছে ধ্রুবতারা বঙ্গবন্ধু

0
50

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি দেশের প্রতিষ্ঠাতা, একটি জাতি নির্মাণের কারিগর, বাঙালি জাতির গন্তব্য নির্ধারণের মহাকবি, ইতিহাসের মহানায়ক তিনি, বিশ্ববাসীর কাছে তিনি এক ধ্রুবতারা। হাজার বছরের এই শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছেন বিশ্ববরেণ্য নেতারা।

কেউ তাকে বলেছেন- রাজনীতির কবি, কেউ তুলনা করেছেন হিমালয়ের সঙ্গে, কেউবা তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন, কেউবা মুগ্ধ হয়েছেন তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব গুণে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের বিভিন্ন উক্তি তুলে ধরা হলো-

১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকালে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্টো বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, তবে শেখ মুজিবের ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতা দেখেছি। এই লোকটি একটি হিমালয় পবর্ত। আমি তাকে দেখে হিমালয় পবর্ত দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।’ একই সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে শোষক শ্রেণি, আরেক ভাগে শোষিত। আমি শোষিতের দলে।’ ওই ভাষণের পর কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘তুমি আজ যে ভাষণ দিলে, এখন থেকে সাবধানে থেকো। আজ থেকে তোমাকে হত্যার জন্য একটি বুলেট তোমার পিছু নিয়েছে।’ ফিদেল কাস্ত্রোর সেদিনের কথাটিই সত্য হয়ে যায় এর দুই বছরের মাথায়।

ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা নোবেল বিজয়ী ইয়াসির আরাফাত বলেছেন, ‘আপসহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব এবং কুসুমকোমল হৃদয় ছিল মুজিবের চরিত্রের বিশেষত্ব।’ সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও এ যাবৎকালের অন্যতম বিশ্বসেরা কূটনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না।’

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাহসী নেতা।’ ভারতের মনিপুর ও ঝাড়খ- রাজ্যের রাজ্যপাল ভেদ মারওয়া। যিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে দেশে আসার পথে বিমানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী হয়েছিলেন। তিনি এক মন্তব্যে বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন ক্যারিসমেটিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা।’ প্রখ্যাত মিশরীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ হাসনাইন হাইকল বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের সম্পত্তি নন। তিনি সমগ্র বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সারা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরবর্তীতে এই মহান ব্যক্তিকে স্মরণ করে বিশ্ব বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা নানা মন্তব্য করেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘শেখ মুজিব নিহত হওয়ার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তার অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।’

ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন, ‘শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে।’ বঙ্গবন্ধরু নিহত হওয়ার সংবাদ শুনে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এতটাই দুঃখ পেয়েছিলেন যে, তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন ‘তোমরা আমার-ই দেওয়া ট্যাংক দিয়ে আমার বন্ধু মুজিবকে হত্যা করেছ! আমি নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিচ্ছি।’

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ। তাই তিনি অমর।’ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘সহিংস ও কাপুরুষোচিতভাবে বাংলাদেশের জনগণের মাঝ থেকে এমন প্রতিভাবান ও সাহসী নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া কী যে মর্মান্তিক ঘটনা! তারপরও বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তারই কন্যার নেতৃত্বে। যুক্তরাষ্ট্র তার সেই স্বপ্ন পূরণে বন্ধু ও সমর্থক হতে পেরে গর্ববোধ করে।’

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here