আম্পানের তাণ্ডবে বাঘায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন আমের ক্ষতি

0
29

রাজশাহীর বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে ৯৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদিত আমের মধ্যে আম্পানের আঘাতে ১৮ হাজার মেট্রিক টন আমের ক্ষতি হয়েছে। শনিবার (২২ মে) উপজেলায় সরেজমিন করে কৃষি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ঝড়ের কারণে পড়ে যাওয়া আম কেউ কিনতে না চাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাষিদের কাছে থেকে সরাসরি ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা আম ১০০ টাকা দরে ক্রয় করেন। বুধবার সকাল থেকে এই আম ক্রয় করা শুরু করেন।

উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের আম চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, বাগানের বড় আম সব ঝরে গেছে। গাছের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে গাছে আমই নেই। গত বছর তার নিজের ও কেনা মিলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছিল। গত বছরের দামে হিসাব করলে এবার তার অন্তত ২৫ লাখ টাকার আম ছিল। এখন ঝড়ের পর গাছ দেখে মনে হচ্ছে, গাছে পাঁচ লাখ টাকার বেশি আম নেই।

আড়ানী গোচর গ্রামের আরেক চাষি একরাম আলী বলেন, গত বছরের মতো দাম পেলে এবার তার তিন লাখ টাকায় বিক্রি হতো। ঝড়ের পর বাগানে গিয়ে মনে হচ্ছে ব্যাপারিই আসবেন না।

উপজেলার নওটিকা গ্রামের আমচাষি তোহাজ্জত হাসান বলেন, তার গ্রামের বাগানগুলোর একতৃতীয়াংশ আম ঝড়ের কারণে পড়ে গেছে। অনেক গাছের ডালপালা ভেঙে গেছে। এই ঝরে পড়া আম প্রায় ২০ মণ কুড়িয়েছেন দিঘা গ্রামের জিয়াউর রহমান। তিনি বলছেন, আম কুড়িয়েই ভুল করেছেন। এই আম নেয়ার কোনো লোক পাচ্ছেন না।

উপজেলার ফতেপুর বাজারে সুলতান হোসেন নামের এক ব্যবাসায়ী মাত্র ৫০ পয়সা কেজি হিসেবে ১ হাজার ২০০ বস্তা আম কিনেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আগের যে কোনো বছরের চেয়ে এবার দেশে আম কম হয়েছে। তার উপর বুধবার রাতে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ে বাঘায় প্রায় ২০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। এতে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বাঘা উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। প্রতি মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা আম বিক্রি করে আয় করেন ২০০ কোটি টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এই আম ক্রয় করা হয়েছে। উপজেলার দুটি গুচ্ছগ্রাম, এতিমখানা এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তসহ জনগোষ্ঠির মাঝে বিনামূল্যে এই আম বিতরণ করা হবে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here