হাইব্রিডরাই আওয়ামী লীগের মাথাব্যথা

0
160

করোনা সঙ্কটকালে আওয়ামী লীগের যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, হাইব্রিডরাই আওয়ামী লীগের মূল মাথাব্যথা। হাইব্রিডদের কারণেই আওয়ামী লীগের বদনাম হয়েছে, হাইব্রিডরা যে দায়িত্বগুলো নিয়েছে, সেই দায়িত্বগুলো সুষ্ঠভাবে পালন করেননি, এমনকি হাইব্রিড যারা মন্ত্রী তাঁরা বদনাম কুড়িয়েছে এবং ব্যর্থতার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধেই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এইসকল হাইব্রিডদের নিয়ে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের মধ্যে যে শুদ্ধি অভিযান এবং অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ এবারের করোনা সংকটকালে বিতর্কিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০০৮ এর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে টানা সাড়ে ১১ বছর যাবত দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে অসংখ্য লোক। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির, বিএনপির বিপুল সংখ্যক কর্মীরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। এই অনুপ্রবেশের কারণেই আওয়ামী লীগ এখন বদনাম কুড়াচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত যে কয়জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিয়েছে তাঁরা সবাই হাইব্রিড এবং ২০১১ সালের পর এরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে এবং মনোনয়ন পেয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা এই বিষয়ে প্রশ্ন করলেন যে, তাঁরা কিভাবে মনোনয়ন পেলেন এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন স্থানীয় প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

হিসেব করলে দেখা যায় যে, এদের মধ্যে ৭০ ভাগই বিএনপি এবং জামায়াত থেকে আসা। অন্যরা কোন রাজনৈতিক দলে ছিলোনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা দলের মধ্যে ঢুকেছে। শুধু তৃণমূল নয়, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি না করেও এমপি হয়েছেন এবং তারাই আওয়ামী লীগের বদনাম করছেন। যেমন গার্মেন্টস মালিক থেকে যেসমস্ত ব্যক্তি এমপি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র টিপু মুন্সী ছাড়া কেউই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না। বরং ছিলেন সুযোগ সন্ধানী। এদের অনেকেই ওয়ান ইলেভেনের সময় ‘বেটার বিজনেস ফোরাম’ করেছিলেন বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এখন এরা আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষে কাজ করছেন এবং সরকারের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। এদের কারণেই শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এই হাইব্রিডরা সরকার যে শ্রমিকবান্ধব কর্মসূচীগুলো নিয়েছে, সেই কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেন না।

মন্ত্রিসভাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এরকম একাধিক ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যারা দায়িত্ব পালনে শুধু ব্যর্থই নয়, মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেওয়াতেও অক্ষমতা প্রকাশ করছেন। আর এই সমস্ত অক্ষম এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাঁরা ব্যবসা করতেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুবাদে এখন এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন এবং এখন তাঁরা সরকারের সংকটের সময়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। আর একারণেই আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদরা মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুশাসন অনুযায়ী হাইব্রিড নেতাদের বিরুদ্ধে যদি এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে সামনের দিনগুলোতে সঙ্কট আরো বাড়বে।
কারণ এদেরকে সংকটকালে রাজনীতির মাঠে পাওয়া যাবেনা, এরা সরকার পরিচালনায় দেশের স্বার্থ দেখতে পাচ্ছেন না, এদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ আসছে, এরা ত্রাণের অর্থ চুরি করছেন এবং মানব কল্যাণের জন্য কাজ করছেন না। একারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্রমশ হাইব্রিড মন্ত্রী-এমপি এবং তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here