আওয়ামী লীগের দু:সময়ের কান্ডারীরা

0
126

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের সবথেকে প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। টানা তিন মেয়াদে দলটি ক্ষমতায় রয়েছে, সংগঠন হিসেবেও দলটি অনেক শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় বটে। কিন্তু ৭১ বছর বয়সী এই দলটির সবসময় সুখের ছিলোনা। এই দলটিকে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, অনেক চড়াই-উতরাই এর মধ্য দিয়ে দলটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সময়ে দলটির মধ্যে অস্তিত্বের সঙ্কটও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এই সমস্ত সঙ্কট অতিক্রমের ক্ষেত্রে কিছু সাহসী মানুষ কঠিন হাতে হাল ধরেছিলেন এবং তাঁদের কারণেই সঙ্কট থেকে উত্তরণ হতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে সবথেকে বেশি অবদান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তাঁর হাত ধরেই আওয়ামী লীগ জনগণের দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, জনগণের আস্থা-ভালোবাসা অর্জন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। জাতির পিতার নেতৃত্বেই আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পেয়েছি। আর আওয়ামী লীগের পেছনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি ৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন, আওয়ামী লীগকে আস্তে আস্তে করে সংগঠিত করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই আজকে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। ৩৯ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতিত্ব করে ১৬ বছরের বেশি সময়ে আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রেখেছেন। এটা একটি বড় অর্জন। এই দুজনই আওয়ামী লীগের মূল কাণ্ডারি এবং প্রাণভোমরা। আওয়ামী লীগের ইতিহাস, আবেগ্ম উচ্ছ্বাস- সবকিছু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে এবং তাঁর স্বপ্ন পূরণের কাণ্ডারি হলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এই দুজন ছাড়াও কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগের কিছু সাহসী মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন-

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁকে নিয়ে চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত এবং এক অনিশ্চয়তার দোলাচালে বাঙালির অধিকার, সেইসময় এক আপোসকামীতার প্রচেষ্টাও চলে। বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই সেসময় দল বাঁচাতে এবং অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আপোস প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেসময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এরকম আপোসকামীতা তিনি কখনো করবেন না। তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানের কারণেই সেইসময় বঙ্গবন্ধু আর প্যারোলে যাননি, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমেই জাতির পিতাকে মানুষ মুক্ত করে এনেছে।

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন

৭৫ এর ১৫ই আগস্টের পর আরেকবার আওয়ামী লীগ গভীর সঙ্কটে পরেছিল এবং সেটা ছিল অস্তিত্বের সঙ্কট। সেই সময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন জোহরা তাজউদ্দিন। শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদের স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দিন আওয়ামী লীগকে পূনসংগঠিত করার চেষ্টা করেন। আস্তে আস্তে দলের যারা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলেন তাঁদেরকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করেন।  জোহরা তাজউদ্দিনের সেই সময়ের সাহসিকতা আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের পর যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সশস্ত্র প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছিলেন প্রধান। তাঁর এই প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছিল, সাহস জুগিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ভারতে যান এবং জাতির পিতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা, আবেগ এবং আদর্শের লালন আওয়ামী লীগের অনেকের জন্য পাথেয় এবং আদর্শ ছিল।

জিল্লুর রহমান

আওয়ামী লীগ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ওয়ান ইলেভেনের সময় আরেকটি রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়েছিল। যে সঙ্কটে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বিদায়ের এক বড় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে রুখে দাঁড়ান জিল্লুর রহমান। তাঁর উদ্যোগের কারণেই শেষ পর্যন্ত মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই সময়ে তিনি যেমন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মর্যাদা রক্ষার লড়াই করেছেন ঠিক তেমনি দলের ভেতর ষড়যন্ত্র এবং বিভক্তি রুখে দেওয়ার জন্যেও ভূমিকা রেখেছেন।

শেখ রেহানা

ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে, নেতাদের সচল রাখতে এবং গণতন্ত্রের আন্দোলনকে বেগবান করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন শেখ রেহানা। তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় শেখ রেহানা লন্ডন থেকে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। দল যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে সেজন্য তিনি বিভিন্ন মত পথের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য যেন চাপ সৃষ্টি করা যায়, সেজন্য তিনি কূটনৈতিক উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। যদিও তিনি আওয়ামী লীগের কোন নেতা নন, কিন্তু দু:সময়ে তিনি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার মতোই আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছিলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রয়াত জিল্লুর রহমানের যোগ্য সহযোগী ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এই দুই নেতা না থাকলে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজন অনিবার্য ছিল এবং শেখ হাসিনার মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতো, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনাকে হেয় করার নোংরা পরিকল্পনা যে বাস্তবায়িত হতো তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

এরকম অনেক মানুষই আছেন যারা কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরে পাশে থেকেছেন। আওয়ামী লীগের ৭১ বছরে এই সমস্ত বীর যোদ্ধাদের স্মরণ করতেই হয়।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here