ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে সকল বিতর্কের উর্ধে রেখে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছে এবি পার্টি

0
71

ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে সকল বিতর্কের উর্ধে রেখে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছে এবি পার্টি

এবি পার্টি শুরু থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে এন্টি-থিসিস আকারে হাজির করার যে মতাদর্শিক রাজনীতি দেশে বিরাজ করছে, সেটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ০২ মে এবি পার্টির ঘোষণার আগে ২৭ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে যখন আমরা ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে রাজনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলাম, সেই ঘোষনাপত্রে স্পষ্ট করে উচ্চারণ করেছিলাম;

“১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর প্রায় ৫০ বছর হতে চলেছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, নারীর সম্ভ্রমহানী, সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ও অপরিসীম ত্যাগ, জীবন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি আর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ। বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে উত্থিত গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিকে নিস্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। তাদের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল সমগ্র বাংলাদেশ।দুঃখজনক তবে সত্য, তখনো কিছু মানুষ রাজনৈতিকভাবে পক্ষ অবলম্বন করেছিল পাকিস্তানের! দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জাতীয় ঐক্যের ওই শীর্ষবিন্দুতে, ঐতিহাসিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও ক্ষুদ্র একটি অংশ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দিতে এবং তাতে অংশ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছিল। কতিপয় ধর্মীয় দল ও বামপন্থীদের একটি ধারার সেই ব্যর্থতা জাতীয় ইতিহাসে এক মলিন অধ্যায় ও ক্ষত সৃষ্টি করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একমাত্র দল না হলেও, পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং তৎকালীন নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়েই বেশি প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দল হিসেবে জামায়াত মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দলীয় ভূমিকার জন্য দায়দায়িত্ব স্বীকার এবং ঐতিহাসিক ক্ষত উপশমে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবিকে বরাবর অগ্রাহ্য করেছে। এই ভ্রান্তি এবং অনৈতিক অবস্থানের বোঝা ‘৭১ পরবর্তী প্রজন্মের বহন করা উচিত নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সকলের গর্বিত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। একে বিভেদ, বিভক্তি ও সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহারের যেকোনো প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। একই সাথে, ইতিহাসের মীমাংসা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে সমস্ত অভিযোগ তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।”

এই ধারাবাহিকতায় ০২ মে পার্টির ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিলঃ

“আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের আজ যে স্বাধীন অস্তিত্বে বিরাজমান তা শত শত বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতি। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আমাদের অবিস্মরণীয় জাতীয় অর্জন। দল মত নির্বিশেষে সকলকে এই অর্জনের প্রতি অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন ধরনের দ্বিধা, হীনমন্যতা, বিভক্তি ও বিদ্বেষ কোন সুনাগরিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আমরা মনেকরি মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল একটি শোষনমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যারা এটা মানেন না বা বিশ্বাস করেননা এবং এ অঙ্গীকার ভঙ্গ করে রাষ্ট্র কে ভুল পথে নিয়ে এসেছেন তারা কেউ দেশের প্রকৃত বন্ধু নন। আমরা মনেকরি ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিজয় আমাদের জাতীয় ঐক্যের অন্যতম পাটাতন। এবি পার্টি এই পাটাতন কে সূদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অন্যান্য সংস্কৃতি এদেশের মানুষের মনে প্রাণে প্রোথিত। নিজ ধর্ম নিয়ে হীনমন্যতা বা বাড়াবাড়ি কোনটাই এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দেশের কৃষ্টি, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, উন্নয়ন সবকিছুতেই ধর্মের প্রভাব বিদ্যমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এদেশের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ধর্মীয় নেতৃত্বের একটি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে ধর্মীয় দলগুলোর মাঝে মতাদর্শিক অনৈক্য খুবই প্রকট। নীতি ও মতভেদের কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়া, পরস্পরকে বাতিল মনেকরা অত্যান্ত বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। নিজেকে একমাত্র সঠিক অন্যদের না হক বা বাতিল মনে করার একদেশদর্শী চিন্তা বিপদজনক বিভাজনের জন্ম দেয়।

আমরা মনেকরি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পবিত্র ধর্ম নিয়ে বাংলাদেশে সবচাইতে বেশী রাজনৈতিক অনৈক্য বিদ্যমান। মুক্তিযুদ্ধ কে স্বীয় সম্পত্তি বা একক অর্জন মনে করে অন্যদের সবার অবদান কে অস্বীকার করা এবং গড়পড়তা সবাইকে দেশবিরোধী ভাবা স্পষ্ট হটকারিতা ও স্বাধীনতার অঙ্গীকারের চরম লংঘন। অনুরুপভাবে নিজেদেরকে ধর্মের একমাত্র সোল এজেন্ট এবং বাকীদের পথভ্রষ্ট, নাস্তিক, বিপথগামী ও মুনাফেক ভাবা চরম অন্যায় ও অধার্মিকতা। এবি পার্টি ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ কে সকল বিতর্কের উর্ধে রেখে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সমান আচরণ এবং সামাজিক সুবিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠিত হলেই কেবল মানুষের মুক্তি মিলবে। তাই একটি আধুনিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান লক্ষ্য।”

মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্ম নিয়ে যাদের হীনমন্যতা বোধ রয়ে গেছে, মুক্তিযুদ্ধকে যারা ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবার মতাদর্শিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত, ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে যারা মতাদর্শিক বিভাজনের রাজনীতি করছেন, তাঁদের কেউ কেউ এবি পার্টির বিরুদ্ধে অপ্রপ্রচারে লিপ্ত। আমরা মনে করি পার্টির দুই মূল দলিলে উল্লেখিত এই বক্তব্যের পর এবি পার্টির নেতা, কর্মি, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সচেতন দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here