নেশাগ্রস্ত নৌ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি লাঞ্ছিত

0
51

ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে ডিডিসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের ও নৌ পুলিশের পুলিশের সুপারের কার্যালয় দুইটিই শহরের গোয়ালচামট নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার পাশাপাশি দুইটি ভবনে অবস্থিত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪.১৫ মিনিটে শহরের গোয়ালচামট ১নং সড়ক সংলগ্ন পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হঠাৎ প্রবেশ করেন। প্রথমে কর্তব্যরত হিসাবরক্ষণ হানিফ মো. উজ্জলকে গালিগালাজ করেন ও চড়থাপ্পর মারেন সেই সাথে পরিদর্শক তুহিন আলম ও সদ্য যোগদানকৃত নারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক গীতা রানী দাসকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ড. মো. লুৎফর রহমান আরো বলেন, আমি তাকে বাধা দিতে গেলে আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং সিসি টিভির ফুটেজ এর আলামতসহ অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করার অপচেষ্টা চালায়।

তিনি আরো জানান, প্রথমে ভেবেছিলাম, সন্ত্রাসী বা ডাকাত কিছু একটা হবে। পরবর্তীতে জানলাম তিনি নৌ পুলিশ ফরিদপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী। ওই সময় কিছুটা মাতাল মাতাল ভাব ছিলো তার ভেতর।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যখন অফিসের ভেতর অস্বাভাবিক ভাবে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। ২ জন কর্মচারীকে চর-থাপ্পর মারেন, একজনের মুখের মাস্ক টেনে খুলে নেন। কর্মকর্তাদের রুমে সিসি ক্যামেরা না থাকায় রুমের ভেতরের মারপিটের দৃশ্য দেখা যায়নি, তবে এক পর্যায়ে উপ পরিচালক রুম থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে পালিয়ে যান সেটি দেখা যায়। তার পেছনে রুম থেকে সুমিত চৌধুরীসহ আরো কয়েকজনকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা।

নৌ পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আরিফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এএসপি সুমিত চৌধুরী এ রকম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকেন। তার কারণে আমরা কেউ ঠিকমত অফিস করতে পারি না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ৩ বার তার ব্যপারে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা মান সম্মানের ভয়ে অফিসে আসতে পারি না। যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি চাই তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার হোক। অপরাধী যেই হোক না কেন তার বিচার হতে হবে।

জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান জানান, দুজনই সরকারি কর্মকর্তা। প্রথমেই আমরা দুজনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। পরিবেশ অধিদপ্তর যদি মামলা করে, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুরো ঘটনাটি সরকারের উর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here