“তৃণমূলের গণতন্ত্রে ভুত-প্রেতের বাসাবাড়ী”

0
72

॥ শৈলেন্দ্র প্রসাদ দাস ॥
জননেত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে তৃনমূল পর্যায় প্রোথিত করার জন্য তথা আপামোর জন সাধারণের মতামতকে প্রধাণ্য দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়নে ক্রিয়াশীল সকল দলকে স্ব স্ব দলিয় মার্কায় নির্বাচন করতে হবে বিধায় কোন দল থেকে এক জনের বেশী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারবে না এই বিধান বা আইন প্রণয়ন করেছেন এবং নিজ দলে অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য ইউনিয়ন কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটির সমন্বয়ে মনোনয়ন বোর্ড তথা কাউন্সলর ও ডেলিগেট কমিটি প্রণয়নের বিধান চালু করেছেন। সে সকল কমিটি উপজেলা কমিটির মাধ্যমে গঠিত তথা প্রাথমিক ভাবে অনুমোদিত হয়। ইউনিয়নে ক্রিয়াশীল অন্যান্য দল এই পদ্ধতীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন না দিলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই বিধান অনুসরণ করতে বাধ্য যদিও এই বিধান চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের অনেক ইউনিয়নেই এই বিধান আদৌ মানা হয় নাই। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন মোতাবেক চেয়ারম্যান নির্বাচন দলিয় মার্কায় হবে যাহা ইউনিয়নে ক্রিয়াশীল সকল দলের জন্য বাধ্যতামূলক। এবং ওয়ার্ড সদস্যগণ দলিয় মৌখিক সমর্থনে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত মার্কা সমূহের মধ্য হতে ইচ্ছাধীন মার্কায় হবে বা হওয়ার বিধান প্রচলিত বিধায় যাহারা চেয়ারম্যান প্রার্থী হইতে ইচ্ছুক সংগত কারণেই তাহাদের দলীয় কমিটির সকল নেতা কর্মীর তথা দলিয় তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী সমর্থকদের মনজয় করার কথা বা তাদের কাছে যোগ্যতা প্রমান করার কথা। যেমন দলিয় আনুগত্য, শিক্ষা, সততা, প্রজ্ঞা, কর্মনিষ্ঠা, শৃংখলা, দেশপ্রেম, জনমমত্ববোধ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ^াস। কিন্তু বাংলাদেশের বেশীর ভাগ ইউনিয়নেই খোদ সরকারী দল (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) এই বিধান মোতাবেক নির্বাচন কল্পে চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির অনেক নেতাকে ডেলিগেট / বা কাউন্সিলরদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে সরাসরি আর্থিক লেনদেন, ইউনিয়ন কাউন্সিল কর্তৃক সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মাত্রাতিরুক্ত প্রদানের অগ্রিম আশ^াসে আবদ্ধ করেন। যেমন : এ ভাবে চুক্তিবদ্ধ ডেলিগেট বা কাউন্সিলরদেরকে একাধীক নামে ভি. জি. এফ কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি। এভাবে তাহাদের সমর্থন আদায় ও ক্ষেত্র বিশেষে ভোটপ্রদানে বাধ্য করেন। কোন কোন ক্ষেত্রে ভয়-ভিত্তি প্রদর্শনকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেন। তাহাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি এমপি সাহেবগণও কোন না কোন মাধ্যমে কাউন্সিলদের স্ব: স্ব: পছন্দসই চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন আদায় করেন বা সমর্থন করার নির্দেশনা দেন। যার ফলে যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার এই বিধান চালু করেছেন তা সম্পূর্ণ ভুলণ্ঠিত হয়ে সেখানে অযোগ্য, নীতিহীন, পরগাছা, অন্যদল থেকে আগত মৌসুমীনেতারা মনোনয়ন পেয়ে দলের সুনাম কাজে লাগিয়ে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গণ্যমান্য, দেশপ্রেমী, জনকল্যাণপ্রীয় নেতাদের পরিবর্তে সার্থান্নেশী, দানবরুপী ভুত প্রেত বসতবাড়ী তৈরি করেন। যেখানে জ্ঞানী গুনিজন ও ভদ্রতার কোন রূপ স্থান নেই, ফলে ইউনিয়নবাসী বঞ্চিত হয় একজন সুযোগ্য চেয়ারম্যানের নাগরিক সেবা থেকে, আর দল বঞ্চিত হয় একজন আত্মত্যাগী দেশপ্রেমিক নেতা তৈরি করতে। এমনকি বর্তমানে অনেক ইউনিয়নে দলিয় কমিটি গঠন করার পূর্বেই উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি সাহেবগণের তৈরি করা ইউনিয়ন কমিটি ও কাউন্সিলর বা ডেলিগেটদের তালিকা নয়-ছয় করে উপজেলা কমিটি বৈধতা দিয়ে জেলা পর্যায়ে অনুমোদনের জন্য পাঠান এবং অনুমোদন করায়ে নেন। যার ফলে দেশে হাজার হাজার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বুকে ব্যথায় আগুন নিয়ে দুঃখ-কষ্ঠ গোপন করে নিস্ক্রিয় হয়ে ঘড়ে বসে চোখের জল ঝড়ান অথবা চিরদিনের জন্য রাজনীতি ছেড়ে স্বেচ্ছানির্বাসনে যান, ফলে হাইব্রিডনেতা, মৌসুমী নেতা ও পঙ্গপালরুপী উড়ন্ত নেতাদের দল ভারী হয়ে অনেক এলাকা রাজনৈতিক শুন্য হয়ে পরেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ রোজ শুক্রবার পটুয়াখালী জেলাধীন বঙ্গপোসাগর বিধৌত মহিপুর থানার আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের ইতিহাস যাহা জাতীর জন্য অতীব বেদনা দায়ক, যেখানে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানীত সাধারণ সম্পদাক জিয়াউর রহমানের সামরিক সাশন বিরোধী ছাত্র রাজনীতিতে আমার অগ্রোজ মান্যবর আব্দুল মান্নান (ভিপি মান্নান) ভাইয়ের মত একজন নির্মোহ বিচক্ষণ জননেতা, তথা আরও অনেক জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সেখানে পূর্ব প্রভাবিত প্রক্রিয়ার ফলে জনপ্রিয় ত্যগি নেতা পেয়েছেন মাত্র ১৬টি ভোট আর মৌসুমী নেতা পেয়েছেন ৪০টি ভোট। বিষয়টি উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দকে হতবাক করলেও দলীয় পদ্ধতিগত বিধানবলির জন্য তা মেনে নিয়েই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। তাই এই অশুভ দানবীয় ধারা পরিহার করে রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গণতন্ত্রের মানষকন্যা, দেশরতœ, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, বাঙালি জাতীর আশা-আখাংকার একমাত্র প্রতীক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথা মাননীয় আইন মন্ত্রী ও মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহদয়ের নিকট আকুল আবেদন অতি সত্তর এই র্চিধরা বিধান বাতিল করে জনগণের মতামত প্রতিফলনের দায়িত্ব ও নেতা তৈরি করার অধীকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে এই অশুভ ভুতপ্রেতের হাত থেকে স্থানীয় সরকার গঠনের প্রাথমিক ক্ষেত্রকে রক্ষা করুন।
লেখক: শিক্ষক ও রাজনীতি চিন্তক।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here