শেষ রক্ষা হচ্ছে না অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রী!

0
102

শেষ রক্ষা হচ্ছে না আওয়ামী লীগের নৌকা বিরোধিতাকারী, বিদ্রোহীদের ইন্ধনদাতা ও ক্ষমতাবলে দলের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টিকারী এমপি-মন্ত্রী এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের। তৃণমূলের ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরীক্ষিত, পদবঞ্চিত এবং দুর্দিনে মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামের সক্রিয় নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত ফেঁসে যাচ্ছেন তারা।

তৃণমূলের ওই সকল অভিযোগপত্র এখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে। ওই সকল অভিযোগ যাচাই-বাছায়ের পর অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তিনি। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ফেঁসে যেতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রী। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আ.লীগ সূত্র জানায়, টানা একযুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে ও জেলা-উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। প্রায় প্রতিদিন নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ঘটছে সংঘর্ষ, হামলা, মামলা, খুনোখুনি। বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাই লীগ, এমপি লীগসহ বলয় ভিত্তিক রাজনীতি। নিজ বলয়ের নেতাদের পছন্দ পদে বসাতে মরিয়া স্থানীয় এমপি এবং প্রভাবশালী নেতারা।

তাদের বলয়ের প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেই ভোটের মাঠে বিদ্রোহী হতে ইন্ধন দিচ্ছেন তারা। একই সাথে দলের দায়িত্বশীল পদপদবিতে স্থান করে দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত থেকে আশা হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের। ফলে পদবঞ্চিত হচ্ছেন দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরিক্ষিত, পদবঞ্চিত এবং দুর্দিনে মাঠের আন্দোলন সংগ্রামের সক্রিয় নেতারা।

স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী নেতা-এমপিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূল আওয়ামী লীগ। তারা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর অভিযোগ করেছেন। এদিকে তৃণমূলের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে এই সকল কোন্দল নিরসন করতে চান তিনি। এ জন্য ওই সকল কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে গত বুধবার গণভবনে অনুষ্ঠিত হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় কঠোর হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন তিনি।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীরা নৌকা বিরোধিতা করায় অনুষ্ঠিত ওই বোর্ডসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের অনেকেই যোগ্য। কিন্তু একজনকে বেছে নিতে হয়। প্রথমে কিছু মান-অভিমান থাকলেও কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেন। কিন্তু সমস্যা কিছু এমপি, মন্ত্রী ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। তারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য নৌকার বিরোধিতা করেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দেন। আমার সাফ কথা, সবার আমলনামা আমার হাতে। যারা পৌরসভায় নৌকার বিরোধিতা করবেন, ওই সকল বিরোধিতাকারীরা আগামীতে সংসদ নির্বাচনে নৌকা পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

অভিযুক্তদের নৌকা দেবো না। বৈঠকে এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অ.লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগের ফাইল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হস্তান্তর করে বলেন, তৃণমূলে কে কার বিরুদ্ধে কাজ করছেন, কোথায় কোথায় দলের মধ্যে কোন্দল চলছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করা আছে। এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আ.লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি তৃণমূলে আমাদের উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভায় ও ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা, কে কার বিরুদ্ধে কাজ করছেন, কোথায় কোথায় দলের মধ্যে কোন্দল চলছে, সেগুলোর তালিকা তিনি তৈরি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্তদের এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আ.লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আশা তৃণমূলের অভিযোগের তালিকায় থাকা অধিকাংশ নেতাই বর্তমানে এমপি, এমপিপন্থি ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের নাম রয়েছে। অভিযুক্ত অধিকাংশের নেতাদের বিরুদ্ধে দলের কর্মী নির্যাতন, যোগ্য ও ত্যাগীদের অবমূল্যান, পরিবারের সদস্যেদের আধিক্য, নৌকার বিরোধিতা, বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপেষক, ক্ষমতা ও পেশিশক্তির অপব্যবহার, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তৃণমূল থেকে উঠে আশা এই সকল অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি বলছে, মেয়াদোত্তীর্ণ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে তৃণমূলের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। এই তালিকায় যাদের নাম রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আগামীতে জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না।

এদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢিউয়ের কারণে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠন কার্যক্রম। করোনার সংক্রমণ রোধে সিমিত পরিসরে তৃণমূলের সম্মেলন, সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের আমলনামার তদন্ত, সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচনের নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিনের রুটিন কাজের কার্যক্রম আগের মতোই করবে ক্ষমতাসীন আ.লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here