কটিয়াদীতে শুরু হচ্ছে ‘মনির পাগলা’ মেলা

0
727

মাহবুব কিরণ মানিক, বিশেষ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর বেতাল গ্রামে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিন ব্যাপী শুরু হচ্ছে ৪২ বছরের ঐতিহ্যবাহী মনির পাগলা মেলা। এরইমধ্যে মেলা ঘিরে উৎসবে মেতে উঠেছে নরসিংদী-গাজীপুর ও ময়মনসিংহ,নান্দালই ও বাম্ম্রনবাড়িয়া জেলাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। ‘মনির পাগলা’ মেলা ঘিরে মসুয়া ইউনিয়নের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন ঈদের আমেজ। প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষে ফালগুনের দ্বিতীয় সাপ্তাহ থেকে চর বেতাল গ্রামে শুরু হয় এ মেলা। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ঐতিহাসিক ‘মনির পাগলা’ নামে পরিচিত এ মেলা। এবার মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদি) আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। আর উদ্বোধন করবেন কটিয়াদি পৌরসভার মেয়র মো: শওকত উসমান (শুক্কর আলী)। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মো: রাজন আহম্মেদ মল্লিক (সুমন) ও হাজী মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন। মেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করবেন সাব্বির আহমেদ সুমন। কটিয়াদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকতারুননেছা বলেন, শুনেছি গত ৪২ বছর যাবত এই মেলা ঝাকঝমকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই আগত দর্শনার্থীরা যেন দুর্ভোগের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মসুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সাব্বির আহমেদ সুমন বলেন, চর বেতালের ‘মনির পাগলা’ মেলায় নানা প্রজাতির দেশি বড়-ছোট সব ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এই মেলা থেকে মাছ-জিলাপী, মুড়ি-চিড়া,বিন্নি খই কিনে শুশুর বাড়িতে বেড়াতে যায় জামাইরা। এছাড়াও মেলায় এক মাস ব্যাপী বিক্রি হয় নিখুত কারোপন্যের খাট-পালনসহ নানা আসবাবপত্র। তিনি বলেন, যেহেতু মেলায় নববধু ও স্বামীরা বেড়াতে আসে, সেদিক বিবেচনা করে কঠোর নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করেছে মেলা আয়োজক কমিটি। একই কথা জানিয়েছেন বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক নাছির উদ্দিন বুলবুল। ইউপি সদস্য সারোয়ার জাহান বাচচু বলেন, দেশি-বেদেশি খেলনা ও হরেক রকমের মাছ মেলার মূল আকর্ষক। সাবেক ইউপি সদস্য ইসতিয়াক আহমেদ মোহাম্মদ বলেন, ঐ মেলাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই অনেক বক্ত বৃন্দ আসে। আরেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, মসুয়া ইউনিয়নের চর বেতালে অনুষ্ঠিত মেলায় ‘মনির পাগলা’ আশেকে বক্তবৃন্দ দলে দলে উপস্থিত হয়। এডভোকেট মুশিদ মিয়া বলেন, গ্রামীন এই মেলার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী আছে। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শুটকি ও মসল্লা পিঠাসহ নানা পিঠা পাওয়া যায় এই মেলায়।

প্রসঙ্গত, কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নে ৪২ বছর আগে মনির পাগলা নামে একজন কামেল মানুষ ছিলেন। উনার মৃত্যুর পর থেকেই তার অনুসারিরা (ভক্তবৃন্দ) মনির পাগলা নামে এই মেলার আয়োজন করেন। এরপর থেকে ৪২ বছর যাবত এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর মেলায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাউল গান অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশবরেন্য বাউল শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

watch price in bangladesh