বেগম জিয়ার চিকিৎসা: অবিশ্বাস, সন্দেহ, দোষারোপ

0
62

বেগম খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার আক্রান্তের খবর নিয়ে যেমন বিএনপি এবং পরিবারের মধ্যে এক ধরনের লুকোচুরি ছিল তেমনি চিকিৎসা নিয়েও লুকোচুরি হচ্ছে। এই লুকোচুরির মূল কারণ হলো পরস্পরের অবিশ্বাস, সন্দেহ। এছাড়া একে অন্যকে দোষারোপ করছেন। বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের জন্য তারা বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক যিনি বেগম জিয়ার আত্মীয় বটে, ডা. মামুনকে দোষারোপ করছেন। তাঁরা মনে করছেন যে, যেখানে বিএনপির নেতৃবৃন্দ যাচ্ছে না, তার পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে, সেখানে তারা নূন্যতম সর্তকতা অবলম্বন করতে পারেননি। বেগম খালেদা জিয়ার এই অসুস্থতা এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি করেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। জিয়া পরিবারের সদস্যদের অবহেলার জন্যই কি বেগম খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হলেন কিনা এ নিয়ে কানাঘুষা চলছে বিএনপির মধ্যে।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেনি। আমরা একাধিকবার বলেছিলাম যে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং দেখভাল দলগতভাবে পরিচালিত হোক। কিন্তু বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাতে রাজি হননি। কিন্তু তারা নূন্যতম স্বাস্থ্য সর্তকতা অবলম্বন করতে পারেননি। ওই নেতা এটাও বলেন যে, আমরা সবাই জানি যে করোনা অত্যন্ত সংক্রমণ এবং এর জন্য কি কি ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা উচিত। তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা কি করলেন। একটি বাড়িতে ৯ জন কিভাবে করোনা আক্রান্ত হলেন, কি সর্তকতা অবলম্বন করা হলো। অবশ্য বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা ভিন্নরকম ভাবছেন। তারাও আবার বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। এ সন্দেহ অবশ্য অন্যকারণে। তারা মনে করছে, বিএনপি হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইবে। এটি যেন না হয় সেজন্য তারা প্রথম থেকেই সতর্ক। তারা মনে করছেন যে, এরকম অসুখ হতেই পারে। এর সাথে কোনো গাফিলতির সম্পর্ক নেই। বেগম জিয়ার অসুস্থতার পর বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া এবং কথাবার্তায় তারা সন্দেহের চোখে দেখছে।

তাছাড়া জিয়া পরিবারের মধ্যেও দুটি ভাগ রয়েছে। একটি ভাগের মধ্যে বেগম জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া এবং তার পরিবার, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান যারা গতকাল চিকিৎসার দেখভাল করছেন। কেউ কেউ তারেক জিয়া এবং জোবায়দার ভূমিকাকেও সন্দেহের চোখে দেখছেন। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে চিকিৎসক দলে অন্তর্ভুক্ত করাটাকে সহজ ভাবে নেননি। কারণ বেগম খালেদা জিয়াকে এখন যদি করোনার জন্য অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয় সেটি তার শরীরে কি প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে সে নিয়েও ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সন্দিহান। বেগম খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের পর একে অন্যকে দোষারোপও চলছে। বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুনকে দোষারোপ করছেন, কেউ কেউ গৃহকর্মীদেরকে দোষারোপ করছেন। পারস্পরিক দোষারোপ এবং অবিশ্বাস সন্দেহের মাঝে শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হয় কিনা এ নিয়েও বিভিন্ন মহলের সন্দেহ দেখা দিয়েছে। একজন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি সংক্রান্ত প্রসঙ্গটি এখানে উত্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন যে, খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে যেমন বিভিন্ন রকম আইনজীবী বিভিন্ন রকম মতামত দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আইনি মারপ্যাঁচে বাড়িটি হারাতে হয়েছিল তাকে। ঠিক তেমনি চিকিৎসা নিয়ে একেকজনের একেক মতামতের পর বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায় কিনা এ নিয়েও অনেকের সন্দেহ এবং অবিশ্বাস রয়েছে। এরকম বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি`র তৃণমূলের কর্মীরা।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here