পদ্মা সেতুর কাজ বাকি সাড়ে ৬ শতাংশ

0
76

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুটি পুরোপুরি দৃশ্যমানহয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। এর আগেইশুরু হয় স্প্যানের ভেতরে রেলওয়ে স্ল্যাব আরওপরে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ, যাএখন শেষের দিকে। বাকি শুধু ভেতরে রেলপথআর ওপরে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। প্রকল্পকর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, মূল সেতুর নির্মাণকাজবাকি রয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।সেতুটিতে আগামী বছরের জুনের মধ্যে একইসঙ্গে গাড়ি ও ট্রেন চলাচলের উপযোগী করতেএখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।

আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুহয় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। আর ২০১৭সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথমস্প্যান। ৪২টি পিয়ারের ওপর সব মিলিয়ে৪১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয় গতবছরের ১০ ডিসেম্বর। বিশ্বের দীর্ঘতম স্টিলকাঠামোর ট্রাস সেতুটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৩০হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

দ্বিতল পদ্মা সেতুর নিচতলায় চলবে ট্রেন।এজন্য স্প্যানগুলোর ভেতরে বসানো হচ্ছেরেলওয়ে স্ল্যাব। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারদীর্ঘ সেতুটিতে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯৫৯টিরেলওয়ে স্ল্যাব বসবে। গতকাল পর্যন্তরেলওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি ছিল মাত্র ১১২টি।রেলওয়ে স্ল্যাবগুলো বসানোর কাজ শেষহলেই শুরু হবে রেলপথ বসানোর কাজ। উন্নতপ্রযুক্তির পাথরবিহীন রেলপথ দিয়ে পদ্মা সেতুপারাপার হবে ট্রেন। সিঙ্গেল লাইনেররেলপথটিতে মিটার গেজ ও ব্রড গেজ—দুইধরনের ট্রেন চলাচলেরই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

সেতুর ওপরতলায় যানবাহন চলাচলের জন্যথাকবে চার লেনের প্রশস্ত সড়ক। সড়কটিনির্মাণ করা হচ্ছে স্প্যানের ওপর বসানোকংক্রিটের স্ল্যাবের ওপর। পুরো সেতুটিতেবসানো হচ্ছে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়েস্ল্যাব। গতকাল পর্যন্ত মাত্র ২৯০টি রোডওয়েস্ল্যাব বসানোর কাজ বাকি ছিল। এসব স্ল্যাবেরওপর নির্মাণ করা সড়ক দিয়ে চলাচল করবেযানবাহন। আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতুটিযানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ারলক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আর যেদিন পদ্মাসেতু চালু হবে, ঠিক সেদিন থেকেই সেতুরওপর দিয়ে ট্রেন চালানোরও লক্ষ্য রয়েছেসরকারের। এজন্য ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্তনির্মাণ করা হচ্ছে ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুনরেলপথ। তবে আগামী বছরের জুনের মধ্যেপুরো রেলপথটি নয়, মাওয়া থেকে ভাঙ্গাপর্যন্ত অংশটি চালুর লক্ষ্যে সব কাজ এগিয়েনিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতেচাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী(মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, সেতুর সিংহভাগ কাজ শেষ।এখন করা হচ্ছে রোডওয়ে স্ল্যাবের ওপরডিভাইডার ও রেলিং তৈরির কাজ। কাজটিঅনেক দূর এগিয়ে গেছে। ডিভাইডার ওরেলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবেপিচ ঢালাইয়ের কাজ। এখন বর্ষাকাল হওয়ায়পিচ ঢালাইয়ের কাজটি কিছুদিন পর শুরু করাহবে। তার আগে আমরা ডিভাইডার ওরেলিংয়ের কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বদিচ্ছি। আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেপিচ ঢালাইয়ের কাজটি শুরু করা সম্ভব হবে।এ কাজ শেষ করতে তিন-চার মাসের মতোসময় লাগতে পারে। গ্যাসের পাইপলাইনস্থাপনের কাজও শুরু হয়ে গেছে।আলোকসজ্জাসহ আরো কিছু আনুষঙ্গিক কাজসম্পন্ন হলেই পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে পদ্মাসেতু।

অন্যদিকে পদ্মা সেতুর জন্য ঢাকার যাত্রাবাড়ীথেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনেরমহাসড়ক তৈরি করেছে সড়ক ও জনপথ(সওজ) অধিদপ্তর। মহাসড়কটি পুরোপুরি‘অ্যাকসেস কন্ট্রোল’ হওয়ায় সরকারেরকর্মকর্তারা এটিকে অভিহিত করছেনএক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে। ঢাকা থেকে মাওয়াহয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘএক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে সরকারের খরচহয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। গতবছরের মার্চে এটি যানবাহন চলাচলের জন্যউন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতু পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ ও টোলআদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দক্ষিণকোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়েকরপোরেশনকে (কেইসি)। কেইসি পদ্মাসেতুর টোল আদায়ে ইলেকট্রনিক টোলকালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতি চালু করবে। ইটিসিলেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে এবংএক্ষেত্রে কোনো যানবাহনকে টোল বুথেথামতে হবে না। কেইসি পদ্মা সেতুররক্ষণাবেক্ষণে পারফরম্যান্স বেজডম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করবে। এ পদ্ধতিতেস্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণএবং এ-সংক্রান্ত বাজেট প্রণয়নে সহায়ক হবে।একইভাবে প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিরট্রাফিক ইনফরমেশন অ্যাপ্লিকেশন চালু করবে।এ পদ্ধতিতে প্রতি মুহূর্তে সড়ক, সেতু বা এরআওতাধীন অন্য যেকোনো অবস্থানে বিদ্যমানযানবাহন-সংক্রান্ত তথ্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবেসেলফোন, বেতার বা অন্য কোনো ডিভাইসেরমাধ্যমে জানা যাবে। কেইসি, বাংলাদেশ সেতুকর্তৃপক্ষসহ টোল আদায় করে এ ধরনেরসংস্থাগুলোর জনবলকে প্রশিক্ষিত করবে।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করছে সরকারের সেতুবিভাগ। গতকাল সেতু বিভাগের চলমান বিভিন্নপ্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় যোগদিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুলকাদের বলেন, নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতুরনির্মাণকাজ ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ শেষহয়েছে। একইভাবে নদী শাসনকাজের অগ্রগতিশতকরা ৮৩ দশমিক ৫০ ভাগ এবং প্রকল্পেরসার্বিক অগ্রগতি হয়েছে শতকরা ৮৬ ভাগ।প্রধানমন্ত্রীর অসীম সাহসের কারণে আজস্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়েচলে এসেছে।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here