“র‌্যাবের দাবি” ওয়াজ মাহফিলের আড়ালে চলছিল গুনবীর জঙ্গি রিক্রুট

0
79

বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিয়ে তার আড়ালে এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের প্রচারণা এবং জঙ্গিদের রিক্রুট করতো দাওয়াত-ই ইসলাম নামক ইসলামী সংগঠনের সভাপতি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা মাহমুদ হাসান গুনবী ওরফে হাসান।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় এই সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃত মাহমুদ হাসান গুনবী ওরফে হাসান মানুষকে এতটাই মোটিভেট করতে পারত যে, যে কেউ তাদের মতাদর্শে জড়িয়ে পড়তে কোন পিছপা হতো না।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অনেককেই নিজের মোটিভেশনাল শক্তির মাধ্যমে অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতো সে। যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতো তাদের ভেতরে নানা ধরনের অনুশোচনাবোধ জাগিয়ে তুলতো এবং জঙ্গিবাদের বিভিন্ন মতাদর্শ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতো। উগ্রবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিতো গুনবী। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের অংশ নিয়ে তার মোটিভেশনাল পাওয়ারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের মনস্তাত্ত্বিক বোধ জাগিয়ে তুলতো।

খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য ওসামা এবং সাকিবকে গ্রেফতারের পর তার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় র‌্যাব। তাদের গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জানতে পারে, সংসদ এলাকায় জড়ো হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ বিষয়ে গুনবীর সম্পৃক্ততা না পেলেও জঙ্গিবাদের উদ্বুদ্ধ করে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সদস্য বাড়াতে বিভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত হয় র‌্যাব। ওসামা ও সাকিব গ্রেফতারের পর থেকে সে বিভিন্ন সময় খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজারসহ উত্তর বঙ্গ এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় গ্রেফতার এড়াতে আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া সম্প্রতি দেশত্যাগের পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু তাদের চলমান অভিযানে গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী বিষয়ক বই এবং পুস্তিকা জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত গুনবীরের খাগড়াছড়িতে একটা মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট একটি গ্রুপকে সে আলাদা করতো। যেখানে তার যাতায়াত ছিল। অনেককে সেখানে নিয়ে যেত। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসাগুলোতে সে প্রচারণা এবং ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিত। সেখানে বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদ বিষয়ক বক্তব্য দিয়েছিল গুনবী। এমনকি বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে উগ্রবাদ ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তার। এ ছাড়া জঙ্গিনেতা ওসামার প্রতিষ্ঠিত রাজবাড়ীতে একটি মাদ্রাসাতেও উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন গুনবীর।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সময়োচিত পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন অভিযানে জঙ্গি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারেনি। জঙ্গিবাদ আমরা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি তবে এতে আমরা কোনও আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। যারা বিভিন্ন মাহফিলে অংশগ্রহণ বিষয়ক বক্তব্য রাখছেন তাদের বিষয়টি আমরা নজর রাখছি এবং আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আনসার আল ইসলাম মতাদর্শের সদস্যরা রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুর এলাকায় তাদের অবস্থান কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। গুনবীরের কাছে থেকে আমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। সে আনসার আল ইসলাম এবিটিএ পক্ষে অন্যতম একজন দর্শন পরিবর্তনকারী। গোপন আস্তানায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা আত্মীয়-স্বজন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। গ্রুপের প্রথমে হুজুরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে জসীমউদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে তার পরিচয় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ঘনিষ্ঠতা কারণে সে আনসার আল ইসলাম বাংলা টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। জসিম উদ্দিন রহমানি গ্রেফতারের পর সে পক্ষপাতিত্ব প্রচারক হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করে।

এবছর এখন পর্যন্ত আনসার আল ইসলামের ৮৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে- এমন তথ্য জানিয়ে খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে আনসার আল ইসলামের সদস্যরাই বেশি ধরা পড়ছে, যারা উগ্রবাদী মতবাদের উসকে দিচ্ছে। গুনবী হেফাজতের কোনও কমিটিতে ছিল না এবং কোনও পদে ছিল না। তবে হেফাজতের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সে অংশ নিয়েছে। নিজেকে জাহির করতে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। সংগঠনের ভেতরে উগ্রবাদী মতাদর্শের প্রচারণায় সে ছায়া সংগঠন পরিচালনা করতো, যাদেরকে মানহাজি সদস্য বলা হয়। বাংলাদেশকে উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে আগ্রহ মতাদর্শ প্রচার পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক করেছে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গুনবীর। বিভিন্ন বিশ্বকে কেন্দ্র করে সুযোগসন্ধানীর অপপ্রয়াস চালায় সে।

গুনবী পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। ২০০৮ সালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর থেকে তাইসির দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকাসহ কুমিল্লা-নোয়াখালী খাগড়াছড়ি বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় মতাদর্শের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। ২০১৪ সাল থেকে ধর্মীয় বক্তব্য প্রচারে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন এবং সে ধর্মীয় বইয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

watch price in bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here