ইউএনও মুনিবুরের প্রত্যাহার দাবি করলেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা

0
101

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমানের প্রত্যাহার দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগের পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানরা।

এছাড়াও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে ঘটনাকালীন তিন ঘণ্টার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জনসন্মুখে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল ক্লাব মিলানায়তনে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান পৌর মেয়র এবং বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কমিটি।

বিকেল ৩টায় পৌর মেয়রদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গৌরনদীর পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান হারিছ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সিসি ক্যামেরার ওই রাতের খণ্ডিত ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী ইউএনও’র বাসায় হামলা চালায়নি। বরং ইউএনও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে তার নিজ বাসায় আটকে রেখেছেন।

তারা ইউএনও’র ঔর্দ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা একইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণসহ পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। এ সময় বিভাগের অন্যান্য পৌর মেয়ররা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টায় একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন বিভাগীয় কমিটির নেতারা বলেন, সিটি করপোরেশন রাতে বর্জ্য অপসারণ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গায়ে পড়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলার সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। তার কোনো দূরভিসন্ধি রয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য শান্ত বরিশালকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

উপজেলার চেয়ারম্যানরা ইউএনও’র অপসারণ, ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং প্রশাসনের দায়েরকৃত মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ সময় বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, আগৈলঝাড়ার চেয়ারম্যান আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, গৌরনদীর চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরী, উজিরপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে সাঁটানো ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের পদবিধারী নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন জেলা আনসার কমান্ডারসহ পুলিশের দুইজন সদস্য।

এই ঘটনায় পুলিশ ও ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ৬০২ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে।

watch price in bangladesh