ফুসফুসের সফল প্রতিস্থাপনে নজির গড়ল কলকাতার হাসপাতাল

0
90

নজির গড়ে সফলভাবে রোগীর শরীরে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের এই কঠিন কাজকে সম্ভব করেছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার।
অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা জানান, অপারেশন সফল। আগামী ৭২ ঘণ্টা রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তারপরই বোঝা যাবে, রোগীর শরীরে কতটা কাজ করছে নতুন ফুসফুস।

প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. কুণাল সরকারের নেতৃত্বে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের ঘটনা নতুন ইতিহাস গড়ল পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা জগতে।

কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ১০৩ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন ৪৬ বছর বয়সী এক রোগী। তার ফুসফুস একেবারেই কাজ করছিল না। আগের দু’মাস ধরে তাকে একমো সাপোর্ট দিয়ে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। তবে শেষের দিকে এসে সেটিও আর কাজ করছিল না। ফলে চিকিৎসকের হাতে শেষ অস্ত্র ছিল ফুসফুস প্রতিস্থাপন। ওই রোগীর পরিবারকে বিষয়টি জানাতে তারা ফুসফুসের সন্ধান শুরু করেন।

এরইমধ্যে ওই রোগীর স্বজনদের কাছে খবর আসে গুজরাটের সুরাটে এক রোগীকে ব্রেনডেড ঘোষণা করা হয়েছে। আর মৃত্যুর এই খবরেই নতুন করে প্রাণ পান এই রোগীর স্বজনরা। এরপর দুই রোগীর স্বজনদের যোগাযোগ হয়, কথা হয় দুই হাসপাতালের চিকিৎসকদের। সবকিছুর সমন্বয় করে সোমবার সুরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় ফুসফুসটি।

ওইদিন রাতে দমদম বিমানবন্দরে ফুসফুসটি পৌঁছানোর পর গ্রিন করিডোর করে তা নিয়ে আসা হয় হাসপাতাল পর্যন্ত। ওই রাতেই অস্ত্রোপচার করে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা।

ফুসফুস গ্রহীতা করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনা নেগেটিভ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক। করোনার ফলেই তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ রকম ক্ষেত্রে ফুসফুস প্রতিস্থাপনই রোগীকে সুস্থ করে তোলার অন্যতম পন্থা বলে জানান চিকিৎসকরা। তাই ওই রোগীর ফুসফুস প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

কলকাতায় তো বটেই পুরো পশ্চিমবঙ্গেই এই প্রথম ফুসফুস প্রতিস্থাপনে মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সত্যিই নতুন নজির গড়ল।

watch price in bangladesh