হোমনায় বিএনপি নেতা কিনলেন নৌকার মনোনয়নপত্র

0
76

কুমিল্লার হোমনায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি ও বিএনপি নেতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দিন পাঠান আসাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ জানান, জালাল পাঠান আসাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বিএনপির নেতা, কখনও আওয়ামী লীগে যোগদান করেননি। ফলে তার দলীয় ফরম কেনার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র তিনি কীভাবে কিনলেন, সেটা তার জানা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিনকে ২০১০ সালের ১২ মার্চ রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার মা সানোয়ারা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলার অন্যতম আসামি জালাল উদ্দিন পাঠান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে আসাদপুর ইউনিয়নের ৪১ সদস্যের বিএনপির কমিটি গঠিত হয় ২০০৯ সালের ৭ নভেম্বর। এই কমিটির ৪ নম্বর সহসভাপতি জালাল। তিনি আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হোমনা পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, জালাল যুবলীগ নেতা মোসলেম হত্যা মামলার আসামি। গত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। দল সিদ্ধান্ত নিবে কী করবে।

তিনি জানান, জালাল যে বর্তমানে বিএনপির কমিটিতে রয়েছেন, এটা তার জানা নেই। তবে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন, এটা তিনি জানেন।

মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার বাদী মোসলেমের মা সেনোয়ারা বেগম জানান, জালাল পাঠানরা তার ছেলেকে হত্যা করেছেন। তিনি একজন বিএনপি নেতা। একজন হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে পারেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবেন জালালকে যেন নৌকা প্রতীক না দেওয়া হয়।

তাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জালাল উদ্দিন পাঠান জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে ফুল দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। মোসলেম হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি নৌকা প্রতীক চাইতে পারেন। দল চাইলে তাকে মনোনয়ন দেবে।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহর মিয়া জানান, আসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালে। সেই কমিটিতে জালাল উদ্দিন পাঠান সহসভাপতি ছিলেন এবং চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।

কুমিল্লা (উত্তর) আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন জানান, এখনও তার কাছে প্রার্থীদের নামের তালিকা আসেনি। এলে বিষয়টি তিনি দেখবেন। তিনি এ বিষয়ে খবর নেবেন বলে জানান।

watch price in bangladesh